Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৪:৫০ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মে ৮, ২০২৬ , ৪:২৮ অপরাহ্ণ

লক্ষ্মীপুরে সরকারি ভাতার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে উধাও প্রতারক চক্র

লেখকঃ জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, রামগতি ও রায়পুর উপজেলাজুড়ে সরকারি বিভিন্ন ভাতা ও ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৭০-৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। চক্রের মূলহোতা তাহমিনা আক্তার লিমা নিজেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তাহমিনা আক্তার লিমা বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজেকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি দাবি করতেন, তার মাধ্যমে খুব সহজেই সরকারি ঘর, শিশু ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়া যাবে।

তার কথায় বিশ্বাস করে স্থানীয়রা বিভিন্ন খাতে টাকা প্রদান করেন। এর মধ্যে—শিশু ভাতার জন্য নেওয়া হয় ৪ হাজার টাকা বয়স্ক ভাতার জন্য ৪ হাজার টাকা মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য ৫ হাজার টাকা টয়লেট নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা করে ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা নেওয়ার সময় দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু সাত থেকে আট মাস পেরিয়ে গেলেও কেউ কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পাননি। উল্টো টাকা ফেরত চাইলে লিমা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।ভুক্তভোগী শাহনাজ বেগম বলেন, “অনেক লোভ দেখিয়ে লিমা গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমি আমার কষ্টার্জিত টাকা উদ্ধারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”

এ ঘটনায় রামগতি উপজেলার পূর্ব চর সীতা গ্রামের মনির আহমেদের মেয়ে শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর সিআর-১০২ এবং দায়েরের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৬।স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজেকে রক্ষা করতে এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে প্রতারক লিমাও আদালতে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত লিমার ছোট ভাই তানভীর হোসেন ও বড় ভাই তারেক হোসেন শুরুতে ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে দুই মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে তারা দাবি করছেন, তাদের বোন নিজেও অন্য একটি পক্ষের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এদিকে মূল অভিযুক্ত তাহমিনা আক্তার লিমা পলাতক থাকায় ভুক্তভোগীরা তাদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হোক।

আজকালের কন্ঠ/আরএস

প্রিন্ট করুন