১৭ বছরের রাজনৈতিক দুঃশাসন থেকে বেরিয়ে এসে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফেরাতে খেলাধুলাকে অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দেখছে সরকার। একইসঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে আগামীতে ৫০০ জাতীয় খেলোয়াড়কে ক্রীড়া ভাতা ও কার্ড দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্পোর্টস রিলেটেড সাবজেক্ট চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্স ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি ইতোমধ্যে জাতীয় খেলোয়াড়দেরকে পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ ক্রীড়া ভাতা এবং ক্রীড়া কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা ইতোমধ্যে ৩০০ জনকে দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন জাতীয় খেলোয়াড়কে এই ক্রীড়া ভাতা ও কার্ডের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করব। এভাবে আমরা তৃণমূল থেকে খেলোয়াড়দেরকে উৎসাহিত করে পেশাদারিত্বের ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই।”
এসময় তিনি বলেন, “আমরা খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চাই। ইতোমধ্যে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পোর্টস রিলেটেড আরও কিছু সাবজেক্ট চালুর পরিকল্পনা করেছি। আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আমরা তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার মাধ্যমে ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে রেখে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিসার রয়েছে, আগামীতে উপজেলা পর্যায়েও নিয়োগের মাধ্যমে স্পোর্টস নিয়ে যারা পড়াশোনা করেছেন, তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ১৭ বছরের রাজনৈতিক দুঃশাসন থেকে বেরিয়ে এসে আমরা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশে ফিরে যেতে চাই। সেই শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশের অন্যতম মাধ্যম হবে খেলাধুলা।”
অনুষ্ঠানে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এবারের আসরে মোট ৩০টি ইভেন্টে দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে।
আজকালের কন্ঠ/আর এস