বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ১০ নং শাহবন্দেগী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ খন্দকার টোলা সড়কটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় এখন স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবিসহ সকলের যাতায়াতের এই সড়কের পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকায় চলাচল হয়ে পড়েছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে জনদুর্ভোগে সবাই।
সরেজমিনে দেখা যায়, খন্দকার টোলা, সাধুবাড়ী, মামুরশাহী, আয়রা, ভায়রা, উচড়ংসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান কেন্দ্র এই সড়ক। চারটি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সড়কের পাশে ড্রেনেজ বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে নোংরা পানিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে পুরো এলাকা। অনেক ক্ষেত্রে সেই পানি বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুকনো মৌসুমে ধুলাবালু আর বর্ষায় কাদা ও নর্দমার পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
অটোরিকশা চালক মহিউদ্দিন ও রমজান আলী জানান, ভাঙা রাস্তার কারণে তাদের আয় কমে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় আয়ের বড় অংশ মেরামতে ব্যয় করতে হচ্ছে। যাত্রী ইয়াসিন, আরাফাত ও শামীম বলেন, ঝাঁকুনিতে অনেক সময় মাথা গাড়ির ছাদে লেগে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
এই সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী খেরুয়া মসজিদ, যা দেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এখানে আসলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেক সময় নোংরা পানির মধ্যে দিয়েই মসজিদে প্রবেশ করতে হচ্ছে, যা পর্যটন খাতের জন্যও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে সেরুয়া বটতলা থেকে ফুলতলা পর্যন্ত সড়কটিও প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও একইভাবে ড্রেনেজ সংকট ও ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শাহবন্দেগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে বরাদ্দ না থাকায় এখনো কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
আজকালের কন্ঠ/আর বি