ভারী বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে নেত্রকোনার নদনদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার হাওরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কংস ও ভোগাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার কংস, ভোগাই, সোমেশ্বরী, ধলাই ও উব্দাখালী নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এরই মধ্যে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে জেলার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরি উপজেলার নদীসংলগ্ন ও হাওরাঞ্চল। বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি ফসলরক্ষা বাঁধের কাছাকাছি চলে এসেছে। এতে বোরো ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন এলাকার কৃষক শামসুদ্দিন বলেন, দিনরাত বৃষ্টি হচ্ছে, পাহাড় থেকেও ঢল নামছে। নদীর পানি খুব দ্রুত বাড়ছে। এখন যদি বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে ধান রক্ষা করা কঠিন হবে।
খালিজুরী উপজেলার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফসলরক্ষা বাঁধে চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে শ্রমিক সংকট থাকায় দ্রুত ধান কাটাও সম্ভব হচ্ছে না। এতে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। বৃষ্টির পানিতেই ধান তলিয়ে যাচ্ছে। বাঁধ ভেঙে গেলে সব শেষ হয়ে যাবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু কিছু এলাকায় গ্রামীণ সড়কে পানি উঠতে শুরু করেছে। নিচু এলাকার বাসিন্দারাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
পাউবোর নেত্রকোনা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ফসলরক্ষা বাঁধগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকতে পারে। এতে জেলার হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত ফসল কাটতে মাইকিং করা হচ্ছে।
আজকালের কন্ঠ/আর এস