Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ এপ্রিল ৩০, ২০২৬ , ৩:২৮ অপরাহ্ণ

শেরপুরে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ধলী বিল প্লাবিত, তলিয়ে গেছে বোরো ধান : দিশেহারা শত শত কৃষক

লেখকঃ মো: রিয়াজ , শেরপুর জেলা প্রতিনিধি :

শেরপুরে টানা কয়েক দিনের থেমে থেমে বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে বিশেষ করে ঝিনাইগাতী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে পাকা ও আধাপাকা বোরো ধানক্ষেত, ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন শত শত কৃষক।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার সারিকালীনগর এলাকার ধলী বিল সংলগ্ন জমিগুলো। সোনালি ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় কৃষকদের চোখেমুখে এখন হতাশার ছাপ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধলী বিল এলাকায় মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত পানির নিচে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও শুধু ধানের শীষ পানির ওপর ভেসে থাকতে দেখা যায়।

তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ও সাংবাদিক শান্ত শিফাত জানান, তার বড় অংকের কৃষিজমি সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “ফসল ফলাতে আড়াই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। এখন সব জমি পানির নিচে। কিছু ধান কাটার চেষ্টা করলেও পানির কারণে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। দৈনিক এক হাজার টাকা দিলেও শ্রমিক মিলছে না। এখন ঋণের বোঝা আর ক্ষতির চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে উপজেলার উত্তর দাড়িয়ারপাড় ও চাপাঝোড়া গ্রামেও। স্থানীয় কৃষক মিজানুর রহমান ও নজরুল ইসলাম জানান, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রায় ২০ থেকে ৩০ একর জমির ধান পানির নিচে। দ্রুত পানি না নামলে ধান পচে যাবে। আগে একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছিল, এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পানি বের হতে পারছে না।

কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো কার্যকর পরিকল্পনা না থাকায় প্রতিবছরই তাদের এমন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন সরকারি সহায়তার আশায় দিন গুনছেন। অনেকেই এনজিও বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কিস্তি পরিশোধ ও জীবিকা নির্বাহ নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, কৃষকদের সমস্যা সমাধানে এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করতে প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা অনুযায়ী সরকারি সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়বে।

আজকালের কন্ঠ/আর এস

প্রিন্ট করুন