রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কারের মাধ্যমেই একটি মানবিক, আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আর এইচ রুমেল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রস্তাবিত সংস্কার কোনো বাহ্যিক চাপ নয়, বরং জনগণের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি অপরিহার্য প্রক্রিয়া।
সম্প্রতি এক বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্যে তিনি রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের প্রধান ভোগান্তির অন্যতম কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি। বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীন করার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের মামলা জট কমানো সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার পাবে। এতে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।
তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। বাহিনীকে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে হলে হেফাজতে নির্যাতন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো ঘটনাগুলোর সম্পূর্ণ অবসান ঘটাতে হবে। এতে নাগরিকদের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বাড়বে এবং ভীতিহীন পরিবেশ তৈরি হবে।
প্রশাসনিক দুর্নীতি প্রসঙ্গে আর এইচ রুমেল বলেন, সরকারি সেবা খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটালাইজেশন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সাধারণ মানুষ সহজেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় রোধ হয়ে তা জনকল্যাণে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
বাকস্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ যখন নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরতে পারে, তখন ক্ষমতার অপব্যবহার কমে আসে এবং একটি জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য বৈষম্যমূলক আইনগুলো বাতিল করা প্রয়োজন। নারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিত হলে রাষ্ট্র আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সম্ভব হয়।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ও সুশাসন নিশ্চিত হলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। এতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।
উপসংহারে আর এইচ রুমেল বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার কেবল আইনি কাঠামোর পরিবর্তন নয়, এটি একটি জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের পথনকশা। একটি সংস্কারমুখী রাষ্ট্রই পারে তার নাগরিকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে এবং বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে।
আজকালের কন্ঠ/আর এস