ঢাকা থেকে বরগুনাগামী ‘গ্রিনভিউ’ পরিবহনের একটি বাসের বেপরোয়া গতিতে ওভারটেকিংয়ের সময় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দুই শিক্ষার্থী। এ ঘটনার জেরে ববি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে বাসটি আটকিয়ে চালককে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে বাসটি ছেড়ে দেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রিনভিউ পরিবহনের বাসটি ব্রিজের ওপর একটি অটোরিকশাকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এতে অটোরিকশায় থাকা ববি’র দুই শিক্ষার্থী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বাসটি ধাওয়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে আটকান। পরে তারা চালককে মারধর করেন এবং বাসটির কয়েকটি গ্লাস ভাঙচুর করেন। কতিপয় শিক্ষার্থীকে বাস ড্রাইভারকে চর থাপ্পড় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করতে দেখা যায়।
এছাড়াও প্রত্যাক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায় বাস ভাঙচুর করতে গিয়ে ২জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ (১২ তম ব্যাচ) ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল (১২তম ব্যাচ)।
‘গ্রিন ভিউ’ বাসের ড্রাইভার বলেন,” আমি একটা লোকাল গাড়ি ওভারটেক করতে ছিলাম, সামনে একটা অটো ছিলো, অটোতে না লাগলেও তারা বাস আটকিয়ে আমাকে মারধর করে ও বাসের গ্লাস ভাঙচুর করে। আমার ভুল হয়ে থাকলে সেজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ”
অটোরিকশায় থাকা ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নিলয় বলেন, “সেতুর ওপর আমাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেছি। আমরা চাই দপদপিয়া সেতুতে আর কোনো দুর্ঘটনা না ঘটুক—এর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আলোচনার মাধ্যমে আহতদের জন্য ১৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, “আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। দপদপিয়া ফেরিঘাটের পাশে নতুন ব্রিজ নির্মাণ শেষ হলে স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে।”
পরবর্তীতে ১৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসে রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা বাসটি ছেড়ে দেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি