লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরআব্দুল্লাহর মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০২২ সালে সরকার একটি ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স বরাদ্দ দিলেও তা কোনো কাজে আসেনি। অবহেলা, তদারকির অভাব ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিতে অ্যাম্বুল্যান্সটি বর্তমানে একটি খালে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে এর ইঞ্জিনসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দ পাওয়ার পর শুরুতে অ্যাম্বুল্যান্সটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়। পরে সমালোচনার মুখে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটি উদ্ধার করে স্থানীয় সেন্টারখালে ফেলে রাখেন। এরপর প্রায় তিন বছর ধরে এটি অযত্নে পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জীবনরক্ষাকারী এই সেবাটি সঠিক পরিকল্পনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শুরু থেকেই অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামগতি উপজেলার চরআব্দুল্লাহ, চরগজারিয়াসহ চারটি চরে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। এসব এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ নৌপথনির্ভর। বর্ষা মৌসুমে এক চরের সঙ্গে অন্য চরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে নৌকা বা ট্রলারের ওপর নির্ভর করতে হয়।
একটি ট্রলার ভাড়া করতে খরচ হয় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা, আর সময় লাগে তিন ঘণ্টারও বেশি। এসব দুর্ভোগ লাঘবে সরকার তিন লাখ টাকা ব্যয়ে ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্সটি সরবরাহ করে।
‘স্বপ্নযাত্রা’ প্রকল্পের আওতায় দেওয়া এই অ্যাম্বুল্যান্সের উদ্দেশ্য ছিল চরাঞ্চল থেকে দ্রুত রোগী এনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে এটি কোনো সুফল দিতে পারেনি।
চরগজারিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম, আবদুল কাইয়ুম ও রায়হান চৌধুরী বলেন, “আমরা মেঘনা নদীর ওপারের চরে বসবাস করি। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা বৃষ্টির সময় কেউ অসুস্থ হলে ৩-৪ হাজার টাকা খরচ করে নৌকা ভাড়া করতে হয়। অ্যাম্বুল্যান্সটি চালু থাকলে গরিব মানুষের অনেক উপকার হতো।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশীষ মজুমদার বলেন, “ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্সটি অনেক আগে সরবরাহ করা হয়েছে। এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, সম্ভবত উপজেলা পরিষদের অধীনে রয়েছে। তবে এটি বর্তমানে অচল অবস্থায় রয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, “চরাঞ্চলের মানুষের জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সেবা। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সটি সংস্কার করে চালু করা হোক, যাতে চরাঞ্চলের মানুষ ন্যূনতম জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি