Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১২:১৭ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ এপ্রিল ১৫, ২০২৬ , ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর বাজারে শতবর্ষী মাছের মেলা

লেখকঃ কাজী শরীফ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রামচন্দ্রপুর বাজারে বসেছে শতবর্ষী বৈশাখী মাছের মেলা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এ মেলায় ভোর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বাজার এলাকা।

মেলায় রুই, কাতল, মৃগেল, চিতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছের ব্যাপক সমাগম ঘটে। এছাড়াও পাঙ্গাস, গ্যাসকার্প, সিলভার কার্প, কালবাউশ, ব্রিগেডসহ নানা জাতের মাছের পাশাপাশি চিংড়ি, টেংড়া, পাবদা, শোলসহ দেশীয় মাছও ছিল চোখে পড়ার মতো। মাছের আকারভেদে প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিক্রেতারা জানান, পহেলা বৈশাখ ঘিরে মাছের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে বড় মাছের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। তবে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে। এরপরও সকাল থেকেই ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
ক্রেতাদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার মাছের দাম কেজিতে বেশ বেড়েছে। তারপরও ঐতিহ্যের টানে অনেকে বড় মাছ কিনছেন।

মেলায় মাছ কিনতে আসা বাবুল মিয়া জানান, ৯০০ টাকা কেজি দরে দুটি কাতল মাছ কিনেছেন তিনি। তার মতে, “সারা বছর এত বড় মাছ সহজে পাওয়া যায় না। পহেলা বৈশাখকে ঘিরেই আমরা এমন মাছ কেনার অপেক্ষায় থাকি।”

রামচন্দ্রপুর বাজারের ব্যবসায়ী সত্য সাহা বলেন, “মেলায় বড় মাছের সরবরাহ ভালো হলেও দাম কিছুটা বেশি। তাই ক্রেতারা দরাদরি করে মাছ কিনছেন। তারপরও সবাই সাধ্যমতো কিনছেন।”

এদিকে মেলায় ঘুরতে আসা সিনিয়র সাংবাদিক সফিক সরকার বলেন, “এই মাছের মেলার সঠিক শুরুর সময় জানা না গেলেও এর বয়স শত বছরের বেশি। এটি মুরাদনগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। অনেকে এখান থেকে মাছ কিনে স্বজনদের পাঠান, আবার কেউ অতিথি আপ্যায়নে ব্যবহার করেন।”

স্থানীয়দের মতে, বৈশাখকে ঘিরে রামচন্দ্রপুর বাজারের এই মাছের মেলা শুধু কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন