ময়মনসিংহে সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিকের নামে ফেসবুকে অপপ্রচার, ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ হ্যাক করে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং অশ্লীল ভিডিও ও আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে সাইবার অপরাধী আনিসুর রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, মুক্তাগাছা উপজেলার মহেশপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিক রফিকের ফেসবুক আইডি ও পেজে অনুপ্রবেশ করে তা নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এরপর ওই আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন অশ্লীল ও মানহানিকর ভিডিও, ছবি এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচার করতে থাকে। এতে করে সাংবাদিক রফিকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয় এবং তিনি সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলাগুলো থানায় আমলে নিয়ে রেকর্ড করেছে পুলিশ। মামলার একটিতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং অপরটিতে সাইবার সুরক্ষা আইন ও চাঁদাবাজির ধারা সংযোজন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা শুধু অপপ্রচার চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং এ ঘটনা কেন্দ্র করে সাংবাদিক রফিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে আরও আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
এদিকে, প্রধান অভিযুক্ত আনিসুর রহমান বর্তমানে পলাতক রয়েছে। পলাতক অবস্থায় থেকেই সে বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ ব্যবহার করে একই ধরনের অশ্লীল ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ এ ধরনের কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে আরও একটি মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আনিসুর রহমানসহ আরও সাতজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে পৃথকভাবে দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে একাধিক টিম ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পলাতক আসামি আনিসুর রহমানকে গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তাকে দেশের যেকোনো স্থানে দেখা গেলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের সাইবার অপরাধ রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
আজকালের কন্ঠ/আর বি