Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৮:২০ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ এপ্রিল ১৪, ২০২৬ , ৬:১৫ অপরাহ্ণ

ভোলায় পথ বন্ধ করে হামলা-ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

লেখকঃ ভোলা প্রতিনিধি

ভোলা সদর এলাকায় দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী বিরোধকে কেন্দ্র করে পথ অবরোধ, মারধর, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এতে একটি পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০-৪৫ বছর ধরে পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন আবুল কালাম ও রফিক মাঝি। তবে গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রফিক মাঝি তার ছেলে নুরুল ইসলাম, নজরুল, মফিজ ও ভুট্টুসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে নিয়ে আবুল কালামের বাড়ির একমাত্র যাতায়াতের পথ জোরপূর্বক বন্ধ করে দেয়। এ সময় গাছ কেটে পথের ওপর ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।

ঘটনার সমাধানের জন্য একইদিন সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে স্থানীয় মুসল্লিরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল কালাম, তার সন্তান এবং প্রতিবেশী নুরুদ্দিন ও খোরশেদ আলম কয়েকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ৫-৭ জন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে গোরশেদ আলমকে উন্নত চিকিৎসার জন বরিশাল শেরে এ বাংলা মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি করানোর জন্য ডাক্তার রেফার করে।

এ ঘটনায় আবুল কালামের ছেলে নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানা-এ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ১ ও ৪ নম্বর আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্তি পান।

অভিযোগ রয়েছে, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আসামিরা পুনরায় আবুল কালাম ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে এবং খুন-জখমের হুমকি দেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আসামিরা আবারও আবুল কালামের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একমাত্র যাতায়াতের পথ জোরপূর্বক বন্ধ করে দেয়। তারা কাঁটা ও অন্যান্য প্রতিবন্ধক বসিয়ে পথ রুদ্ধ করে এবং লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে অবস্থান নেয়। এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এ সময় তারা প্রকাশ্যে হুমকি দেয়, উক্ত পথ দিয়ে চলাচল করলে আবুল কালাম বা তার সন্তানদের হত্যা করা হবে।

এ বিষয়ে ইলিশা পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ জানানো হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাময়িকভাবে রাস্তার প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করেন। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই আসামিরা পুনরায় একইভাবে রাস্তা বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারটি জানায়, তারা বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন।

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের পক্ষে মালিকানার দাবি করায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।

রফিক মাজির ছেলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, “এই সম্পত্তি আমাদের দাদার আমলের। বর্তমানে আমার বাবা এর মালিক। জমির প্রকৃত মালিক আমরা।”

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “আবুল কালাম নিজেকে ক্রয়সূত্রে মালিক দাবি করলেও একাধিকবার বসতে চাইলেও তারা কোনো কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়নি।”

অন্যদিকে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জহিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

“জমিটি আবুল কালামের ক্রয়কৃত সম্পত্তি—এটা সত্য। তবে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী মঙ্গলবার উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন