Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ এপ্রিল ১৩, ২০২৬ , ৮:০৮ অপরাহ্ণ

”ববি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় পহেলা বৈশাখ”

লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

রাত পোহালেই দিনপঞ্জিকার পাতায় ১৪৩২ কে বিদায় জানিয়ে ১৪৩৩-এর আগমন। কালের খেয়ায় আরেকটি নতুন বছর। নতুন সুর্যের লাল আভায় আলোকিত হোক ব্যক্তি, সমাজ, জাতি ও দেশ। নববর্ষ আমাদের জীবনে আসে নতুন স্বপ্ন নিয়ে, বেঁচে থাকার নবীন আশ্বাস নিয়ে।

পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতির সবচেয়ে আনন্দমুখর ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলোর একটি। উৎসাহ এবং আনন্দের সাথে উদযাপিত হোক পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন

পহেলা বৈশাখ নিয়ে ভাবনা জানতে চাইলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হালিমা খাতুন কেয়া বলেন, “নতুনকে নতুনত্বের ছোঁয়ায় বেঁধেছি!

লাল-সাদা, আর পান্তা ইলিশ বাঙ্গালি সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি।

‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিমূর্তি। এই দিনে পুরনো সব দুঃখ- কষ্ট ভুলে নতুনত্বের বীজ বপন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক স্মৃতি অঙ্কিত চিত্র। পরিবার, বন্ধুদের সাথে কাটানো এই মুহূর্ত যেন শিকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। পহেলা বৈশাখ সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমার কাছে পহেলা বৈশাখ মানে আনন্দ, উল্লাস, ঐক্যের মেল বন্ধন।”

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিন আব্দুল্লাহ বলেন, “নববর্ষ শুধু উৎসব নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও কৃষিজীবনের প্রতিচ্ছবি।
স্বমহিমায় বিকশিত হোক নববর্ষ।

এই শুভকামনায় সবাইকে নববর্ষের প্রীতি ও শুভেচ্ছা। নববর্ষ আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, যা প্রতি বছর নানা উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হয়। তবে এটি উদযাপনের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে কিছু মতভিন্নতা রয়েছে—ঐতিহ্যগতভাবে সূর্যোদয় থেকে দিন গণনা শুরু হলেও বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে রাত ১২টা থেকে উদযাপন করা হয়। নববর্ষ মূলত ফসলি সনের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে কৃষকের জীবনযাত্রার প্রতিফলন দেখা যায়। ঐতিহাসিকভাবে মোগল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। ১৫৫৬ সালে ফসলি সাল চালু হয়ে পরে আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। তাই নববর্ষ শুধু উৎসব নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও কৃষিজীবনের প্রতিচ্ছবি।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী কাজি গালিব বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান উৎসব। এটা আমাদের শেকড়।প্রতিটি শিক্ষার্থীদের কাছে এই দিনটি আনন্দ, উৎসব ও নতুন আশার প্রতীক। এ দিনে আমরা নতুন পোশাক পরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি, ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পান্তা-ইলিশ, মেলা ও মঙ্গল শোভাযাত্রা এ দিনের বিশেষ আকর্ষণ। এই উৎসব আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষার্থী নতুন বছরে নতুন উদ্যমে পড়াশোনা করার অনুপ্রেরণা পায়। তাই পহেলা বৈশাখ আমাদের জীবনে আনন্দ ও প্রেরণার উৎস।”

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত জাহান বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমার কাছে শুধু একটি দিন নয়, এটি একটি অনুভূতি, একটি নতুন শুরুর প্রতীক।বাংলা নতুন বছরের প্রথম সকাল যেন নতুন আশা আর স্বপ্ন নিয়ে আসে।এই দিনে শহর থেকে গ্রাম—সবখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সকালের প্রথম আলোয় চারদিকে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। লাল-সাদা শাড়িতে সেজে ওঠে নারীরা, যা বৈশাখের সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। পুরুষদের পাঞ্জাবি আর মুখভরা হাসি—সব মিলিয়ে এক বর্ণিল পরিবেশ তৈরি হয়।

পহেলা বৈশাখ কেবল একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের জাতিসত্তার প্রতিচ্ছবি। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নতুনভাবে শুরু করার সাহসই জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

এইভাবেই প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ আসে, আমাদের জীবনে নতুন আলো ও আনন্দের বার্তা নিয়ে।”

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন