Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৫:০২ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ এপ্রিল ৯, ২০২৬ , ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর শ্যামপুর ডাকাতের মূল হোতা আওয়ামী লীগ নেতা রুম্মন মৃধাকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১০

লেখকঃ ঢাকা সিটি রিপোর্টার

‎শ্যামপুর–জুরাইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‍্যাব-১০ এক ডাকাতি মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন রুমান মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি মানিকগঞ্জের শিবালয় থানায় দায়ের হওয়া পাওয়ার গ্রিড অব বাংলাদেশ প্রকল্পের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘটিত প্রায় ৫৮ লাখ টাকার মালামাল লুটের মামলার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সংঘটিত ওই ডাকাতির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত সাব্বির এখনও পলাতক রয়েছে। লুট হওয়া মালামালও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

‎অভিযোগ অনুযায়ী, রুমান মৃধার মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র পরিচালিত হতো। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় কুলি হিসেবে কাজ করা রুমান পরবর্তীতে শ্যামপুর এলাকার ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি জহুরুলের ঘনিষ্ঠ হন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

‎তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, এবং চুরি বা ডাকাতির মাধ্যমে সংগৃহীত স্ক্র্যাপ তামা ও লোহা কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালে একটি বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরির ঘটনাতেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।

‎আরও অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের যুবলীগের সভাপতি জহিরুলের নেতৃত্বে পেট্রোল পাম্পে অগ্নিসংযোগের ঘটনায়ও তিনি জড়িত ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করেন এবং অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেন।

‎সর্বশেষ ডাকাতির ঘটনায় অভিযোগ রয়েছে, লুট হওয়া সরকারি মালামাল প্রথমে রুমান মৃধার জুরাইন মদপট্টি কারখানায় রাখা হয় এবং পরে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। একটি অডিও রেকর্ডের বরাতে দাবি করা হয়েছে, পলাতক সাব্বিরের কাছে রুমানের ব্যাংক হিসাব থেকে ইস্যু করা একটি ফাঁকা চেক ও মেমো রয়েছে এবং ডাকাতির কিছু অর্থও তার কাছে রয়েছে। ডাকাতির মালামাল ওই রাতেই রুম্মন মৃধার কারখানায় ফালানো হয়

‎র‍্যাব-১০ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রিন্ট করুন