Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৫:৩২ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ এপ্রিল ৬, ২০২৬ , ৭:১৩ অপরাহ্ণ

দেবিদ্বারে কৃষক জুলুস মিয়া হত্যা: শিশু সন্তানদের নিয়ে স্ত্রীর মানববন্ধনে বিচার দাবি

লেখকঃ শাহ সাহিদ উদ্দিন, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার সুবিল ইউনিয়নে কৃষক জুলুস মিয়া (৫৫) হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। এতে অংশ নিয়ে নিহতের স্ত্রী শিউলী আক্তার ছোট ছোট সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে স্বামীর হত্যার বিচার দাবি করলে ঘটনাস্থলে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

রোববার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর বাজারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকশত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে শিউলী আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছোট ছোট সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। যারা তাকে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

কর্মসূচিতে স্থানীয় ভূমিহীন সংগঠনের সভাপতি লীল মিয়া, নিহতের ভাতিজা সোহেল রানা, সুলতান হাজী, বাসির সামিউন, খোকন মিয়া, ওসমান ভূইয়া, সরু মিয়া, খাইরুল আমিন, আবু হানিফ, শাহ আলম, মজিবুর রহমান, হবি, নাজমুল হাসান, মাজহারুল ও আবুল কালামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন নিরীহ কৃষককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পূর্ব নারায়নপুর গ্রামের একটি চায়ের দোকানে কুকুরকে লাথি দেওয়াকে কেন্দ্র করে জুলুস মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের মো. কামাল হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের সময় জুলুস মিয়ার অণ্ডকোষে আঘাত করা হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনায় কামাল হোসেন ছাড়াও তার ভাই আনোয়ার (২৮), আলী আহম্মদ (৩০) এবং চাচাতো ভাই ফখরুলের নাম স্থানীয়ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পরদিন দেবিদ্বার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এসআই বাঁধনের নেতৃত্বে একটি দল ব্রাহ্মণপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করে।

নিহতের স্বজনরা জানান, জুলুস মিয়া কৃষিকাজ করে ৫ ছেলে ও ২ মেয়ের পরিবার চালাতেন। তার মৃত্যুর ফলে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন