Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১১:৩৭ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ এপ্রিল ৩, ২০২৬ , ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

ফসল রক্ষায় খালে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ দিচ্ছেন কৃষকরা, ছুটে গেলেন ডেপুটি স্পীকার

লেখকঃ সুশীল আচার্য্য, নেত্রকোনা প্রতিনিধি

সারাবছরের খাদ্য মজুদের একমাত্র ফসল বোরো ধান। স্বপ্নের এই ফসল ঘরে তুলতে বর্তমানে অপেক্ষায় আছেন নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক। ধানগুলো পরিপক্ষ হলে মাত্র আর কদিন পরেই এসব ধান কৃষকদের গোলায় উঠবে।

কিন্তু কলমাকান্দা উপজেলার গোরাডুবাসহ কয়েকটি হাওরের কৃষকদের স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি। এ পানি স্থানীয় খাওয়ারবাড়ি খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হাওরে ঢুকে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকদের ধানের জমি। এরইমধ্যে কিছু জমি তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা।

এছাড়া বাকী ফসল ঘরে তোলা নিয়েও আশঙ্কা করছেন তারা। এ অবস্থায় কৃষকরা নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে খালে বাঁধ দিচ্ছেন। আর কৃষকদের এ কাজ দেখতে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

জেলার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের গোরাডুবা হাওর। এ হাওরে স্থানীয় কেশবপুর, কান্দাপারা, বড়খাপন, চৌহাটা, করলাপুর, বড়ইউন্দ, সাহাপুর, কওরাজান, কামুউরা, গৌবিন্দপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা অন্তত ৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বোরো আবাদ করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলেন, প্রতিবছরই অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলের কারণে আগাম বন্যায় ফসলহানি হয়। এ জন্য খাওয়ারবাড়ি খালটি খননের জন্য ডেপুটি স্পীকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।

কৃষকরা আরও বলেন, এরইমধ্যে গোরাডুবা হাওরে পানি ঢুকে অনেক জমি তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। আর যেন ক্ষতি না হয়, এ জন্যই তারা খালে বাঁধ দিচ্ছেন।

নেত্রকোনা-২ এর সংসদ সদস্য ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ কাজের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আমরা নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। তবে ধীরে ধীরে সব কাজই করা হবে। হাওরাঞ্চলের ফসল রক্ষা এবং প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে স্থায়ী সমাধান করা হবে ইনশাআল্লাহ।

গোরাডুবা হাওরে পানি ঢুকে কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা নিজেরাই বাঁধ নির্মাণ করছেন এবং এতে প্রশাসনও সহায়তা করছে। আশা করি, বাঁধ নির্মাণ হয়ে গেলে আর কোনো সমস্যা হবে না।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন