মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত সরবরাহ সংকট কাটিয়ে জ্বালানি তেল বিতরণে আরোপিত রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ঈদ সামনে রেখে জনসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন কুড়িগ্রামে। সরকারি ঘোষণার পরও জেলার বিভিন্ন পেট্রোলপাম্পে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার বেশি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাইক চালকরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, রেশনিং প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে স্বস্তি পেলেও পাম্পে গিয়ে পড়তে হচ্ছে নতুন বিড়ম্বনায়। প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পেয়ে অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরছেন। বিশেষ করে কর্মজীবী ও দূরপাল্লার যাতায়াতকারী বাইক চালকদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোথাও কোথাও এখনো অঘোষিত সীমাবদ্ধতা চালু রাখা হয়েছে। ফলে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, কাগজে-কলমে সিদ্ধান্ত হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই।
এদিকে পেট্রোলপাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও কিছু জায়গায় এখনো পর্যাপ্ত তেল পৌঁছায়নি। তাই সীমিত আকারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ না থাকায় জেলার বিভিন্ন স্থানে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যান চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।এদিকে পাম্প পর্যাপ্ত তেল না থাকার সুযোগে খোলাবাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
সরে জমিন ঘুরে দেখা যায় যে উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারের বিশেষ করে চৌমুহনি বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর প্রচুর পরিমাণে পেট্রোল এবং ডিজেল মজুদ রয়েছে তা চড়া দামে বিক্রি করছে স্থানীয়দের দাবি, প্রতি লিটার তেল ১৭০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, যা স্বাভাবিক দামের তুলনায় অনেক বেশি।
ভুক্তভোগীরা জানান, বেশি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা জরুরি। নইলে ঈদকে সামনে রেখে জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজকালের কন্ঠ/আর এস