ঈদের আনন্দ মানেই নতুন পোশাক, সেমাইয়ের সুবাস আর কোলাকুলি। কিন্তু ছোটদের কাছে ঈদের আসল সার্থকতা লুকিয়ে থাকে অন্য এক জায়গায়— যার নাম ‘সালামি’। বড়দের পকেট থেকে কৌশলে টাকা বের করে আনাটা রীতিমতো এক শিল্প। প্রতিবছরই ঈদের সকালে শুরু হয় এই অলিখিত ‘সালামি যুদ্ধ’। তবে বড়দের যুক্তি আর টালবাহানা জয় করে কাঙ্ক্ষিত নোটটি বগলদবা করতে প্রয়োজন কিছু রণকৌশল।
আগেভাগেই প্রস্তুতি
আসল কাজ শুরু হয় ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই। লক্ষ্য ঠিক করতে হয়— পরিবারের কোন সদস্যটি বেশি উদার আর কার পকেট একটু ভারী। ঈদের অন্তত তিনদিন আগে থেকে টার্গেট করা বড়দের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করা এবং ছোটখাটো কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য করা একটি কার্যকর প্রাথমিক পদক্ষেপ। এতে সালামি দেওয়ার সময় বড়দের মনে এক ধরনের ‘মনস্তাত্ত্বিক দায়বদ্ধতা’ তৈরি হয়।
মোক্ষম সময় ও পরিবেশ
সালামি আদায়ের ক্ষেত্রে টাইমিং বা সময়জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ঈদের নামাজের পর বা দুপুরের তৃপ্তিদায়ক খাবারের পর বড়রা যখন আড্ডায় বসেন, তখনই আক্রমণের সেরা সময়। এই সময় মানুষের মেজাজ ফুরফুরে থাকে।
ভক্তির মোড়কে আবদার
সালামি আদায়ের চিরচেনা অথচ অব্যর্থ অস্ত্র হলো কদমবুসি বা পা ছুঁয়ে সালাম করা। তবে শুধু সালাম করলেই হবে না, সাথে থাকতে হবে বিনয় আর হাসিমাখা মুখ। সালাম করার পর বড়দের দোয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাথা নিচু করে থাকাটা এক ধরনের নীরব চাপ সৃষ্টি করে। দোয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই মায়াবী চোখে চেয়ে থাকলে বড়রা পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করতে বাধ্য হন।
একা সালামি চাওয়ার চেয়ে কাজিনরা মিলে দলবদ্ধভাবে কোনো বড় মামা বা চাচাকে ঘিরে ধরা অনেক বেশি ফলপ্রসূ। জনসমক্ষে কম টাকা দিলে নিজের সম্মানহানি হতে পারে— এই ভয়ে বড়রা সাধারণত দলগত আবেদনের ক্ষেত্রে একটু বেশি উদারতা দেখান। এক্ষেত্রে বড় ভাই বা আপুদের ছোটবেলার কথা মনে করিয়ে দিয়ে মৃদু ‘ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল’ করাটাও বেশ কার্যকর।
ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল বুদ্ধি
বড়দের একটি পরিচিত অজুহাত হলো— ‘খুচরা নেই’ বা ‘ভাঙতি নেই’। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান প্রজন্ম বেশ আধুনিক। পকেটে নগদ টাকা না থাকলে সাথে সাথে বিকাশের কিউআর কোড বা নম্বর ধরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার এই উপস্থিত বুদ্ধি দেখে বড়রা অবাক যেমন হবেন, তেমনি আপনার ডিজিটাল পারদর্শিতায় খুশি হয়ে সালামির অঙ্কটা বাড়িয়েও দিতে পারেন।
‘বাজেট ফেল’ ঠেকানোর কৌশল
পরিবারে এমন কিছু সদস্য থাকেন যারা সালামির নাম শুনলে সুকৌশলে এড়িয়ে যান। তাদের জন্য প্রয়োজন বিশেষ নজরদারি। তারা যখন খাবার টেবিলে বসেন বা ঘর থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নেন, ঠিক সেই মুহূর্তে হানা দিতে হবে। সবার সামনে তাদের সালাম করলে তারা অন্তত মানসম্মান রক্ষার্থে হলেও পকেটে হাত দিতে বাধ্য হবেন।
আজকালের কন্ঠ/আর এস