Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৩:৩১ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মার্চ ৬, ২০২৬ , ২:৪৬ অপরাহ্ণ

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় তেল পাম্পে মোটরসাইকেল ও কৃষকের তেল সংগ্রহের ভিড়

লেখকঃ মোঃ আতিয়ার রহমান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় একটি তেল পাম্পে হঠাৎ করে মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। স্থানীয় মজুমদার তেল পাম্পে শুক্রবার সকাল থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং ড্রাম হাতে কৃষকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয়রা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন গুঞ্জনের কারণে অনেকেই আগাম তেল সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। এতে এলাকায় সাময়িকভাবে তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে।
পাম্পে উপস্থিত এক কৃষক বলেন, “আমাদের ইরি ধানের ব্লকে পানি দিতে ডিজেলচালিত স্যালো মেশিন চালাতে হয়। সময়মতো ডিজেল না পেলে ধানের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।”

মোটরসাইকেল চালকদের অনেকেই জানান, ভবিষ্যতে তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন খবর শুনে তারা আগাম পেট্রোল সংগ্রহ করছেন।

পাম্পের এক কর্মচারী বলেন, “আমাদের কাছে এখন প্রায় ৯ হাজার লিটার ডিজেল রয়েছে। তবে ডিপো থেকে কোটা পদ্ধতিতে তেল দেওয়া হচ্ছে, তাই চাহিদা বেশি হলে চাপ তৈরি হয়।”

স্থানীয় জনগণের আশঙ্কা, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী যদি সুযোগ নিয়ে ডিজেল বা পেট্রোল মজুদ করে, তাহলে দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। তাই তারা প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, দেশে ডিজেল প্রায় ১৪ দিনের, পেট্রোল প্রায় ১৫ দিনের, অকটেন প্রায় ২৮ দিনের, ফার্নেস অয়েল প্রায় ৯৩ দিনের এবং জেট ফুয়েল প্রায় ৫৫ দিনের মজুদ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প বাজার থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং কিছু বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলারের বেশি ছাড়িয়েছে। তবে বিপিসি বলছে, দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম চালু রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন যদি নিয়মিত নজরদারি বাড়ায় এবং কালোবাজারি বন্ধে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সবাই স্বাভাবিকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে পারবে এবং কৃষি কাজেও কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন