Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৫:৪৮ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মার্চ ৪, ২০২৬ , ৮:৩৬ অপরাহ্ণ

কলমাকান্দার সীমান্তে গারো পাহাড় ঘেঁসা ঐতিহ্যবাহী চেংগ্নি মেলা শুরু হয়েছে

লেখকঃ সুশীল আচার্য্য, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

সনাতন ধর্মের দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে এবারও নানা আয়োজনে সাজানো হয়েছে নেত্রকোনার পাহাড়ি অঞ্চল কলমাকান্দার সীমান্তঘেঁষা জনপদ। পাহাড়ের কোলঘেঁষা চেংগ্নি গ্রামে শুরু হয়েছে ২০০ বছরের অধিক পুরোনো ঐতিহ্যবাহী চেংগ্নি মেলা। প্রতিবছর অগণিত মানুষের ঢল নামে এ ঐতিহ্যবাহী মেলায়।

হাজং সম্প্রদায়ের দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে আড়ম্বরপূর্ণ দোল পূজাকে কেন্দ্র করে দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এ মেলা চলে আসছে। এ মেলা যেন ধর্মীয় আচার-আচরণের পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্তের মানুষের মিলনক্ষেত্র।

এলাকাবাসী জানান, কলমাকান্দায় লেংগুরা ইউনিয়নের গোপালবাড়ি চেংগ্নি গ্রামে একটি গোপালবাড়ি মন্দির রয়েছে। এ মন্দিরে অন্যান্য পূজা পার্বণের পাশাপাশি হাজং সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দোলপূজা করে আসছেন। সেই পূজাকে ঘিরেই প্রতিবছর বসে এই ঐতিহ্যবাহী মেলা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এরপর শুক্রবার (৬ মার্চ) পর্যন্ত তিন দিন চলবে এই মেলা।

মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে বিস্তীর্ণ সমতল অঞ্চলে অবস্থিত গোপালবাড়ি মন্দিরকে সাজানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন সাজে। মেলাজুড়ে লাল, সবুজ বিচিত্র রকমের রঙিন কাপড়, হরেক রকম আলোকসজ্জা এবং উৎসবের আমেজে পুরো এলাকা যেন নতুন করে সেজেছে অপরূপ সৌন্দর্যে। দেখামাত্র চোখ জুড়িয়ে যায় দর্শনার্থীদের। বিশাল এ গ্ৰামীণ মেলায় ইতোমধ্যেই বসতে শুরু করেছে নানা রকম দোকান। শিশু পণ্য, নারী পণ্য থেকে শুরু করে কোথাও বাঁশ ও কাঠের তৈরি আসবাবপত্র, কোথাও রঙিন তৈজসপত্র, আবার কোথাও নিপুণ হাতে তৈরি লোকজ শিল্পকর্ম। সব মিলে নজরকাড়া বিশাল আয়োজন।

রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের খাবারের দোকান। নানা রঙের বেলুন, প্লাস্টিকের পণ্য, মাটির জিনিসপত্র, খেলনা ফানুস মেলার আনন্দকে বহুগুণে আরও রঙিন করে তুলেছে। জেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে এই মেলায় অগণিত মানুষের ঢল নামে প্রতিবছর। একদিকে ধর্মীয় অনুভূতি অপরদিকে নৈস্বর্গিক পরিবেশে অপরূপ বিনোদন।

মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রণব হাজং বলেন, মেলার নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ মেলার অনুষ্ঠান সুন্দর ও আনন্দময় পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য সবার সহযোগিতা চাই।

আজকালের কন্ঠ/ আর এস/এস

প্রিন্ট করুন