Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মার্চ ৩, ২০২৬ , ২:৩৪ অপরাহ্ণ

মুন্সীগঞ্জ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রহিমা শিকদার

লেখকঃ হুমায়ুন কবির রাব্বি ​রিপোর্টার

​বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অন্যতম নিবেদিতপ্রাণ ও রাজপথের পরীক্ষিত নেত্রী বেগম রহিমা শিকদার আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য পদে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রী দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন।

​তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতি

​বেগম রহিমা শিকদারের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় আশির দশকে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে। তিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা এবং সরকারি হরগঙ্গা কলেজ ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী (২০০৬-২০১৯) এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন।
​২০০৯ সাল থেকে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ সমবায় মার্কেটিং সোসাইটি লিঃ-এর নির্বাচিত সহ-সভাপতি এবং মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা বিআরডিবি-র সাবেক চেয়ারম্যান।

​ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ত্যাগ

​রহিমা শিকদারের পুরো পরিবারই বিএনপির রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দলের জন্য তার ব্যক্তিগত ত্যাগ অপরিসীম। বিবাহের মাত্র ৫ মাস ১৯ দিনের মাথায় তিনি তার স্বামীকে হারান। তার বড় ভাই মরহুম শাহজাহান শিকদার ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। রাজনীতির কারণে রহিমা শিকদার নিজেও অসংখ্য মামলার শিকার হয়েছেন, হারিয়েছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ। এমনকি গত ২৮শে অক্টোবরের মহাসমাবেশসহ পরবর্তী কর্মসূচিগুলোতে সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি গুরুতর অসুস্থতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

​মনোনয়ন প্রত্যাশার কারণ

​কেন তিনি সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চান, এই প্রশ্নে বেগম রহিমা শিকদার জানান:
​”শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফার সফল বাস্তবায়নে আমি আমৃত্যু কাজ করতে চাই। তৃণমূলের সাধারণ নেতাকর্মীদের সাথে আমার নিবিড় সম্পর্ক। দীর্ঘদিনের রাজপথের লড়াই এবং দলের প্রতি আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবে দল যদি আমাকে সুযোগ দেয়, তবে আমি মুন্সীগঞ্জসহ সারাদেশের নারীদের অধিকার রক্ষা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করব।”

​সামাজিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম

​করোনাকালীন দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, মসজিদ-মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান এবং মুন্সীগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে আর্তমানবতার সেবায় তিনি সবসময় নিয়োজিত রয়েছেন। এলাকায় একজন পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

​তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা, দলের প্রতি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী এই নেত্রীকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করলে রাজপথের কর্মীদের মূল্যায়ন হবে এবং সংসদে বিএনপির কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন