ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে চরপাড়া এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব হোটেলের কিছু অংশে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কার্যক্রম, মাদক বেচাকেনা এবং ছিনতাইকারীদের আশ্রয় দেওয়ার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। এতে হাসপাতালকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট একটি চক্র টোকেন পদ্ধতিতে কক্ষ ভাড়া দিয়ে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিচিত দালালদের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গোপনে বিজ্ঞাপন দিয়ে খদ্দের জোগাড় করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা বাড়ে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরাও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসাকেন্দ্রের সামনে এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। অনেক সময় আশপাশে ছিনতাই, মোবাইল ফোন ছোঁ মেরে নেওয়া কিংবা মাদক সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর অভিযুক্তদের এসব হোটেলে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে বলে দাবি করেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হলেও তা নিয়মিত নয়। তাদের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী হোটেল মালিক নানা উপায়ে ‘ম্যানেজ’ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন হচ্ছে না।
এদিকে তিন নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, অভিযোগ পাওয়ার পরও কার্যকর নজরদারি ও টেকসই পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের অভিমত, হাসপাতালসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, নিয়মিত অভিযান, হোটেলগুলোর কাগজপত্র যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
চরপাড়া এলাকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে এলাকাটি অপরাধমুক্ত হবে এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন পরিবেশ ফিরে পাবে স্বস্তি ও নিরাপত্তা।
আজকালের কন্ঠ/আর বি