তৃণমূল থেকে উঠে আসা সাহসী ও পরীক্ষিত নারী নেত্রী সুফিয়া বেগম বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল–এর কুমিল্লা উত্তর জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় হামলা-মামলা ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জননেত্রী হিসেবে।
শিক্ষা ও প্রারম্ভিক জীবন দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘড় এলাকার সন্তান সুফিয়া বেগম শিক্ষাজীবনে ছিলেন মেধাবী ছাত্রী। বড়শালঘড় বেগম নুরুন্নাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ হয়ে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে বড়শালঘড় মফিজ উদ্দিন আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন। পরে ১৯৯৫ সালে দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৯৮ সালে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স এবং কুমিল্লা বিএড কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তিনি শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করেন।
পেশাজীবন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ২০০৬ সালে বড়শালঘড় এলাকায় খালেদা জিয়া–র নামে প্রতিষ্ঠিত একটি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বিদ্যালয়ের সরকারি বই ও সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া এবং একাধিক মামলা দায়েরের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও পিছপা হননি সুফিয়া বেগম।
নির্বাচনী সাফল্য ও সাংগঠনিক ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সুফিয়া বেগম ২০১৪ সালে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি প্রায় ৯৮ হাজার ভোট পেয়ে জাতীয়ভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী হন বলে জানা যায়।
তার নেতৃত্বে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির ১১টি ইউনিটে সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে। দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, চান্দিনা ও দেবিদ্বারসহ বিভিন্ন স্থানে হরতাল ও অবস্থান কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি।
আন্দোলন-সংগ্রাম ও মানবিক কার্যক্রম দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়ে ২০২৩ সালে জেলা বিএনপির পদযাত্রায় পুলিশের গুলি ও লাঠিচার্জে আহত হন এবং বিস্ফোরক মামলায় আসামি হন। একাধিক মামলার আসামি হয়েও দলীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন তিনি।
ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকে নিহত-আহত পরিবার এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও করোনা মহামারীর সময় মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও সংখ্যালঘু-অসহায় পরিবারের সহায়তায়ও রেখেছেন দৃঢ় ভূমিকা।
শিক্ষা, আদর্শ ও সংগ্রামে গড়ে ওঠা এই নেতৃত্ব জনতার আস্থা ও সংগঠনের শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন আগামীর পথে।