Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ , ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

নোয়াখালীতে মন্ত্রী নেই বাড়ছে হতাশা

লেখকঃ নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের পর উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেশী ফেনী ও লক্ষ্মীপুর থেকে মন্ত্রী নিয়োগ পেলেও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নোয়াখালী এবারও মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব পায়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সুর শোনা যাচ্ছে।

যোগ্য নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও বঞ্চনার অভিযোগ

নোয়াখালীর পাঁচটি সংসদীয় আসন নোয়াখালী- (১, ২, ৩, ৪,৫ ও ৬)থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তাঁদের ভাষ্য, জেলার রাজনৈতিক গুরুত্ব, জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক অবদান বিবেচনায় মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব প্রত্যাশিত ছিল।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর স্থানীয় নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, নোয়াখালীর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার জন্য। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর কাছে জেলার পক্ষ থেকে মন্ত্রীসভায় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, যোগ্য নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও জেলা বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

অর্থনৈতিক অবদান ও নীতিনির্ধারণী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন কৃষি উৎপাদন, মৎস্য খাত, প্রবাসী আয় এবং উপকূলীয় উন্নয়নে নোয়াখালীর অবদান উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি, নদীভাঙন, বেড়িবাঁধ ও অবকাঠামো উন্নয়ন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

একাধিক সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা বলেন, মন্ত্রী থাকা মানেই উন্নয়ন নিশ্চিত নয়; তবে প্রশাসনিক সমন্বয়, বাজেট বরাদ্দ ও প্রকল্প তদারকিতে সুবিধা হয় এমন ধারণা স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত।

অন্যদিকে ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে মন্ত্রী পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট জেলার নেতাকর্মীরা আশা করছেন, এতে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে গতি আসবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা

ঐতিহাসিকভাবে নোয়াখালী জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে। অতীতে এ জেলা থেকে একাধিক শীর্ষ নেতা উঠে এসেছেন এবং জাতীয় নেতৃত্বে প্রভাব রেখেছেন। ফলে এবারও মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মতে, মন্ত্রিসভা গঠনে দলীয় কৌশল, আঞ্চলিক ভারসাম্য ও জাতীয় রাজনৈতিক সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে কোনো জেলার প্রতিনিধিত্ব না থাকা সব সময় অবমূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয় না; বরং এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের অংশও হতে পারে।

জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আশা করছে, ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হলে নোয়াখালী থেকে যোগ্য কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। উপকূলীয় জেলা হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শক্ত ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রত্যাশাই এখন নোয়াখালীবাসীর প্রধান দাবি।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন