পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ফুলবাড়ী উপজেলার কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারে হঠাৎ করেই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজান উপলক্ষে চাহিদা বাড়তে শুরু করায় ফলমূল ও শুকনো খাবারের বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। আগে যেখানে প্রতি কেজি খেজুর ২০০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ২২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আঙ্গুরের দাম কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকার কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে।
কেবল ফলমূল নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাবাজারের পণ্যগুলোর দামেও লক্ষ্য করা গেছে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে, রসুনের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
সবজি বাজারেও একই চিত্র। দুই দিন আগেও শসা যেখানে ২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল, এখন তা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুর হালি ৩২ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে। এছাড়া দেশি বেগুন ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৫০ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৭০ টাকা এবং গাজর ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে আসা অনেক ক্রেতা বলেন, হঠাৎ করে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। রমজান সামনে রেখে বাড়তি কেনাকাটার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে তারা আরও বেশি আর্থিক চাপ অনুভব করছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ার কারণেই খুচরা বাজারে এই প্রভাব পড়ছে।
সাধারণ মানুষের দাবি, রমজান মাসে যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে থাকে, সে জন্য দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি