ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬-এ কুড়িগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নেতা ড. আতিক মুজাহিদ রাজনৈতিক ঐক্য ও সহনশীলতার এক অনন্য বার্তা দিয়েছেন। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পর আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি পারস্পরিক সম্মান এবং উন্নয়নমুখী রাজনীতি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে ড. আতিক মুজাহিদ লেখেন- “আলহামদুলিল্লাহ, গেজেটেড।” এই বার্তার মাধ্যমে তিনি কেবল নির্বাচনী ফলাফলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিই উদযাপন করেননি, বরং কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, “বিভাজন ও সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে সম্মান, উন্নয়ন এবং ইনসাফভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চা প্রতিষ্ঠাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।” তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক আদর্শে ভিন্নতা থাকলেও এলাকার বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে কুড়িগ্রামকে সুস্থ রাজনীতির একটি ‘মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।
প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে তার উদার মনোভাব। তিনি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপি সমর্থিত পরাজিত প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ-এর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। ড. মুজাহিদের ভাষায় “নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমাপ্তি ঘটে, এরপর শুরু হয় উন্নয়ন ও জনকল্যাণের স্বার্থে সম্মিলিতভাবে কাজ করার নতুন অধ্যায়।”
কুড়িগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করাই তার প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বিশ্বাস করেন, রাজনৈতিক ভিন্নমতকে সম্মান জানিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ী হওয়ার পর ড. আতিক মুজাহিদের এই ঐক্যের ডাক স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি কেবল সংঘাত কমাবে না, বরং এলাকায় একটি জবাবদিহিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।
আজকালের কন্ঠ/ আর এস/জা