পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী মিছিলে বিএনপি কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী কর্মীসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরঅডেল তোর গ্রাম এলাকার খানকা বাজারে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারিয়া বাজার এলাকায় দাড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে জামায়াতের নারী কর্মীরা প্রচারণা চালালে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি কর্মীরা এতে বাধা দেয়। এ সময় নারী কর্মীদের টেনে-হিঁচড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
পরে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরঅডেল খানকা বাজার থেকে দাড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের একটি মিছিল শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি কর্মী সোহেল রাড়ি (৩৫), আনোয়ার (৪০), মোহাম্মদ (৪৫), আবু কালাম (৪৫), নাইম (৩০) ও ফিরোজ (৩৫)-এর নেতৃত্বে প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি রামদা, চাইনিজ কুড়াল, রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিলে পেছন দিক থেকে হামলা চালায়। এতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জামায়াত কর্মীদের আহত করা হয়। একপর্যায়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে।
আহতদের মধ্যে জামাল মেধা (২২), মিয়া জান, আবুল হাশেম (৪৪), জুয়েল (৩৪), নয়ন (১৭), সজীব মাঝি (১৭), শাহজালাল (২০), আলামিন (২৫), সাইফুল (৩৫), সুজন (৩২), রোজিনা (৩২), তানজিলা (২৬), আশরাফুল (৪০), নূর মাদবার (৩৮), আমিনুল (৩২), ইব্রাহিম (৩০), সালাম (৩০), সোহেল (১৮), আব্দুস সুবহান (৪০), আনিসুর রহমান (৫৫), শহিদুল (২৮) ও সোহরাব (২৭) রয়েছেন। তাদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন মৃধা নামে একজন বিএনপি কর্মীও আহত হয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ. ______ জানান, আহত ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জামাল মৃধা নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আরও পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।
ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের হাজারো নেতাকর্মী বাউফল শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রত্যাহারের দাবিও তোলা হয়।
এদিকে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে এমন সহিংস ঘটনা ঘটতেই থাকে। তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ওসি প্রত্যাহার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি