আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রাকৃতিক সম্পদ আর পাহাড়ি সৌন্দর্যে ঘেরা এই আসনে এবার মূল লড়াই জমে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ’ধানের শীষ’ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ‘রিকশা’ প্রতীকের মধ্যে। তবে পাহাড় ও সীমান্তের এই জনপদে ভোটের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলছে উপজাতি, সংখ্যালঘু ভোটার এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১৮২ জন। এর মধ্যে কলমাকান্দা উপজেলায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ১৮৫ জন এবং দুর্গাপুর উপজেলায় ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৭ জন ভোটার রয়েছেন।
আসনটিতে লড়াই করছেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন- ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (বিএনপি-ধানের শীষ), গোলাম রব্বানী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-রিকশা), আনোয়ার হোসেন খান (জাতীয় পার্টি-লাঙল), আব্দুল মান্নান (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা), আলকাছ উদ্দিন মীর (সিপিবি-কাস্তে) ও ইঞ্জি. বেলাল হোসেন (জেএসডি-তারা)
মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, লড়াই মূলত দ্বিমুখী। বিএনপি’র প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁর আইনি মেধা ও মানবাধিকার রক্ষার ইমেজ নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সুশাসন ও তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
অন্যদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে মাঠে আছেন। তবে বারংবার দল পরিবর্তন নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বইছে স্থানীয় রাজনীতিতে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি হয়ে এখন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হওয়াকে ভোটারদের একটি অংশ ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ হিসেবে দেখছেন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক। দীর্ঘদিন ধরে আইনি সহায়তা, মানবাধিকার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় পরিচিত মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই তিনি নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্ুংতি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।
অন্যদিকে এগারো দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নেমেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ একাধিক দল ঘুরে এবার খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে ঘিরে এলাকায় দলবদলের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, তিনি সাধারণত যে দলে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেদিকেই ঝুঁকে পড়েন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক আদর্শিক অবস্থান নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, তিনি সাধারণত যে দলে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেদিকেই ঝুঁকে পড়েন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক আদর্শিক অবস্থান নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
আজকালের কন্ঠ/ আর এস/এস