ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে নজিরবিহীন এক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মামলার এক আসামির জামিনের কাগজপত্র ব্যবহার করে কারাগার থেকে পালিয়ে গেছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক দুর্ধর্ষ আসামি। এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও গাফিলতির দায়ে একজন ডেপুটি জেলারসহ ৮ জন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
কারা সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন আগে একটি সাধারণ মামলার আসামির জামিননামা কারাগারে পৌঁছায়। সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ওই আসামির নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কারামুক্ত হয়ে বেরিয়ে যায়। কারাগারের গেটে সাধারণত মুক্তির আগে আসামির ছবি ও আঙুলের ছাপ (Biometrics) যাচাই করার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা করা হয়নি অথবা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর গণনা এবং নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
ভয়াবহতা বিবেচনায় কারা অধিদপ্তর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ডেপুটি জেলার (নাম পাওয়া গেলে যুক্ত করবো) এবং আরও সাতজন কারারক্ষীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “এটি কেবল গাফিলতি নয়, এর পেছনে কোনো অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ বা বড় ধরনের সিন্ডিকেট আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির এভাবে বের হয়ে যাওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।”
এই ঘটনার পর সারা দেশের কারাগারগুলোতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারাগারের ডিজিটাল ডাটাবেজ এবং ভেরিফিকেশন সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করলে এ ধরনের জালিয়াতি অসম্ভব ছিল।
বর্তমানে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।