আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। চায়ের দোকান থেকে বাজার-মাঠ—সবখানেই এখন প্রার্থী ও প্রতীক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় মুখর জনপদ। পোস্টার, লিফলেট আর মাইকে প্রচারণায় পুরো উপজেলা জুড়ে তৈরি হয়েছে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ।
ইতিমধ্যে এই আসনে চূড়ান্ত চার প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। দশ দলীয় জোটের মনোনীত জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আউইব বিন মুসা তাঁর সমর্থন প্রত্যাহার করে জোটের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারী ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচারে সক্রিয়। গণধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মো:হাবিবুর রহমান ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাউফল আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৫০১ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৯ জন।
বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার শুরুর দিকে এ আসনে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহমেদ তালুকদার ও সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেনের সমর্থকদের ব্যাপক আন্দোলন-বিক্ষোভ দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে স্বতন্ত্র প্রার্থিতা হয়নি।
এদিকে ভোটের মাঠে জোরালো উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর। দলটির দাবি, ইতিমধ্যে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে নেতাকর্মীদের দিন-রাত প্রচেষ্টায় ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে ডা.শফিকুল ইসলাম মাসুদের শিবির বেশ চাঙ্গা।
অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের একাংশের সমর্থকরাও নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা এবার উন্নয়ন, সুশাসন ও নিরাপদ সমাজব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেখতে চান। ভোটারদের ভাষ্য, ‘যিনি মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং বাউফলকে এগিয়ে নিতে পারবেন—আমরা তাকেই ভোট দেব।’
সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-২ আসনে এবার যে ভোটের লড়াই সহজ হবে না, সে আভাস মিলছে শুরু থেকেই।
আজকালের কন্ঠ/আর বি