আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নির্বাচনের হাওয়া। ভোটের মাঠে প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী থাকায় বাকেরগঞ্জে গড়ে উঠেছে ত্রিমুখী লড়াই। দলীয় প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো উপজেলার শহর থেকে গ্রাম।
বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ১৪ টি ইউনিয়নে ভোটারদের সংখ্যা ৩ লক্ষ ১৫ হাজার ৫৯৭ জন। বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, বরিশাল জেলা জামাতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহামুদুন-নবী তালুকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম শায়েখে চরমোনাই হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী। এই তিন প্রার্থী রয়েছেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটারদের মন জয় করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিনই উঠান বৈঠক, পথসভা, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন এসব ইস্যুকে সামনে রেখে প্রার্থীরা নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।
এদিকে সাধারণ ভোটারদের মাঝে উৎসাহের পাশাপাশি কৌতূহলও লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেক ভোটার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি বলে জানা গেছে। তাদের মতে, যোগ্য ও এলাকার উন্নয়নে আন্তরিক প্রার্থীই তাদের ভোট পাবেন।
২০২৬ ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে কার গলায় পরবে ফুলের মালা আর কে হাসবে মহাবিজয়ের শেষ হাসি সে প্রত্যাশায় অতীতের গ্লানি মুছে দিয়ে চেষ্টা- প্রচেষ্টা, ভোট প্রার্থনায় মহাব্যস্ত সময় কাটছে এমপি প্রার্থী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলে জনগণের আস্থা ফেরবে। তারা উন্নয়ন ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই ভোট দেবেন। অতীতে নানা অনিয়মের কারণে তারা এবার শঙ্কিত। প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা না থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তারা একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চান। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও যোগ্য প্রার্থী তাদের কাছে মুখ্য। দল নয়-এবার তারা কাজের মানুষকেই ভোট দিতে চান।
সব মিলিয়ে বাকেরগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো উপজেলা বাসি।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো: আমির খসরু গাজী জনকণ্ঠকে বলেন, নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আজকালের কন্ঠ/আর বি