নওগাঁর রানীনগরে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় ঠান্ডাজনিত কারণে ইরি-বোরো ধানের বীজতলা মরে যাচ্ছে।
কৃষকরা বিভিন্নভাবে বীজতলা রক্ষা জন্য নানা জাতের কীটনাশক প্রয়োগ করে কোন ফলাফল না পেয়ে একেবারে হতাশ হয়ে চারাগুলো রক্ষার হাল ছেড়ে দিয়েছে কিছু কৃষক। গত কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা আর অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে কিছু এলাকার বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কৃষি অফিস বলছে ঠান্ডার প্রকোপ কমে গেলে এই সমস্যা কেটে যাবে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৯শ ৫৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ধান লাগানোও শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই পরিমাণ জমিতে ধান রোপনের জন্য প্রায় ৯শ ৫৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আগে যে সমস্ত চাষিরা বীজতলা তৈরি করেছিলো ঠান্ডাজনিত কারণে বীজের তেমন ক্ষতি হয়নি। বরং যে সমস্ত চাষিরা দেরিতে বীজতলা তৈরি করেছিলো তাদের বেশিরভাগ বীজতলা ঠান্ডার কবলে পরে মরে যাচ্ছে। চাষিরা ইচ্ছে মতো কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করেও এ থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছে না। তবে কৃষি অফিসের মাঠ পর্যায়ের লোকজনদের প্রয়োজন মতো পাশে না পাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাইল গ্রামের কৃষক মুনছুর আলী ও শহিদ হোসেন জানান, আমরা দুজন মিলে প্রায় ১৭ বিঘা জমিতে ধান লাগানোর জন্য কৃষি অফিস থেকে ধানের বীজ নিয়ে বীজতলা তৈরি করি। শীতের কারণে আমাদের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলা কিভাবে রক্ষা হবে এমন পরামর্শের জন্য কৃষি অফিসের লোকজনকে আমরা পাশে পাইনা। বাধ্য হয়ে কীটনাশক ওষুধ ব্যবসায়ীদের পরামর্শে দোকান থেকে ওষুধ নিয়ে বীজতলায় ছিটিয়েও লাভ হচ্ছে না। তাই বীজতলার আশা ছেড়ে দিয়েছি জমিতে ধান আর লাগাবো না। ইতিমধ্যে জমিগুলো টাকা নিয়ে জমা দিতে শুরু করেছি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জাহিদুল রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের জন্য লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করার পাশাপাশি ৯শ ৫৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। আবহাওয়া জনিত কারণে স্বল্প পরিমাণ বীজতলা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ঠান্ডার প্রকোপ কমে গেলে আশা করি বীজতলা স্বাভাবিক হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি