সারাদেশে জেঁকে বসেছে শীত। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ। প্রচণ্ড শীতে হতদরিদ্রদের কিছুটা উষ্ণতা দিতে সারাদেশে কম্বলসহ অন্যান্য শীতবস্ত্র দিচ্ছে সরকার।
নেত্রকোনার মদন উপজেলার ভাটি অঞ্চল মাঘান ইউনিয়নের ঘাটুয়া এবং ত্রিপন ২টি গুচ্ছগ্রামের ১১৮টি হতদরিদ্র ছিন্নমূল পরিবারের ভাগ্যে জোটেনি কোন সরকারের বরাদ্দের শীতবস্ত্র কম্বল । শীতবস্ত্র কম্বল না পেয়ে মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন ২টি গুচ্ছগ্রামের হতদরিদ্র মানুষজন।তবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের দাবি, চাহিদার তুলনায় শীতবস্ত্র কম হওয়ায় বঞ্চিত হতে হচ্ছে তাদের।
১৩ জানুয়ারি সরজমিনে গেলে ৮০ বছরের বৃদ্ধা হালেছার মা, কেঁদে বলেন,প্রতিবারই শোনা যায় সরকারি কম্বল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরার ভাগ্যে জোটেনি শীতবস্ত্র কম্বল। মদন উপজেলার শীতার্ত মানুষের সংখ্যার তুলনায় কম্বল বা শীতবস্ত্র বিতরণের সংখ্যা খুবই নগণ্য।
মদন উপজেলা ১ লাখ ২৯ হাজারের ও বেশি ভোটার রয়েছে।এর মধ্যে অসহায়, দুঃস্থ, ছিন্নমূল বা হতদরিদ্র মানুষ আছে ১০ হাজারেরও অনেক বেশি রয়েছে বলে সরকারি বেসরকারিসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার শীতবস্ত্রের সরকারি বরাদ্দের পরিমাণও কম।
উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের ত্রিপন গুচ্ছগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিন (৬৫)বলেন, অন্যের বাড়িতে দিনমজুরি করি কোনরকম ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে আছি। অন্যের বাড়িতে কাজ করতে না গেলেঘরে চুলা জ্বলবে না।কিন্তু,আমি এখন পর্যন্ত কম্বল বা একটা সোয়েটার বা সরকারি কোনও সুবিধা পাইনি।
গুচ্ছগ্রামবাসী কম্বলের পাশাপাশি অন্য শীতবস্ত্রও দাবি করেছেন।৭০ বছরের ঊর্ধ্বে রুকেল মিয়া বলেন ‘দিনে যেমন-তেমন, রাতে খুব ঠাণ্ডা বেশি লাগে। খালি একটা কাঁথা দিয়ে কি শীত পালায়? মোটা সোয়েটার বা পুরাতন জ্যাকেট হলেও সবসময় পরা যাবে এমন শীতের কাপড় সরকার দিলে আমরাদের জন্য ভালো হতো।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবুল কালাম মাঘান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রশাসক জানান, প্রতিটি ইউপি সদস্যকে ১০টি করে কম্বল দেয়া হয়েছে। তারা শীত বস্ত্র বিতরণ করেছেন।
মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মিজ বেদবতী মিস্ত্রী জানান, ১৭শত শীতবস্ত্র কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা ৮ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে শীতবস্ত্র কম্বল আরোও আসবে, যারা শীতবস্ত্র পাওয়ার যোগ্য এখনো পায়নি তাঁদেরকেই দেওয়া হবে। আমি নিজে গিয়েও পৌরসভায় ঘুরে ঘুরে ছিন্নমূল হতদরিদ্র মানুষের মাঝে কিছু শীতবস্ত্র নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করেছি।
আজকালের কন্ঠ /আর এস/এস