
নিজের বড় বোনের বিক্রি করা সম্পত্তির দলিলে যিনি শনাক্তকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলেন, জমি বিক্রির পর সেই ভাইয়ের বিরুদ্ধেই এখন একই জমিতে পানির সংযোগ দিতে গিয়ে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন মনছুরাবাদ এলাকায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সেলিম বুধবার (৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এবং ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডারের বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সেলিম জানান, তিনি ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দলিল নং–১৩৯০১ অনুযায়ী মনছুরাবাদ বাই লেইনের আবদুল মিয়ার বাড়ি এলাকায় এজমালিক রাস্তা সহ মোট ২.০৩ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন। জমিটি তিনি অভিযুক্ত আবদুল করিমের বড় বোন খুরশীদা বেগমের কাছ থেকে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে কিনেছেন। দলিল সম্পাদনের সময় অভিযুক্ত আবদুল করিম নিজেই দলিলে শনাক্তকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। ফলে জমি বিক্রয় ও মালিকানা বিষয়ে তার অবগতির বিষয়টি দলিলেই প্রতিফলিত হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
দলিলমূলে জমির দখল গ্রহণ করে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে পরিবারসহ বসবাস শুরু করেন মো. সেলিম। তবে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির সংযোগের জন্য আবেদন করার পর থেকেই অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা বাধা প্রদান শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আশায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে একাধিকবার সামাজিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং পানির সংযোগ ও ভাড়াটিয়া রাখা নিয়ে আপত্তি তুলে চাপ ও হুমকি বাড়ানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ ডিসেম্বর বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে অভিযুক্তরা মো. সেলিম ও তার পরিবারের সদস্যদের নিজ বাড়ির সামনে ডেকে নিয়ে গালাগালি করেন এবং তার ঘরে কোনো ভাড়াটিয়া থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। একইসঙ্গে পানির সংযোগ নেওয়া যাবে না বলেও জানানো হয়।
এ ঘটনার পর ২৭ ডিসেম্বর ডবলমুরিং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে জিডির পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীর। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে অভিযুক্তের সেজ ভাইয়ের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পানির সংযোগ নিতে হলে ৮ লাখ টাকা দিতে হবে বলে দাবি করা হয়। বিষয়টি চাঁদাবাজির শামিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপ ভুক্তভোগীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানানো হয়।
ভুক্তভোগীর আশঙ্কা, আগামী ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষের পানির লাইন স্থাপনের সময় অভিযুক্ত পক্ষ বেআইনি বাধা প্রদান, সংঘর্ষ সৃষ্টি বা জানমালের ক্ষয়ক্ষতির অপচেষ্টা করতে পারে। এ কারণে তিনি প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও আইনগত সহায়তা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল করিমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে তিনি নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরদিন রাতে পুনরায় তার মুঠোফোনে কল দেয়া হলে প্রতিবেদকের সাথে তার স্ত্রীর কথা বলেন। তিনি চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার স্বামী কখনোই কোনো টাকা দাবি করেননি। বরং বাদী পক্ষকে সহযোগিতা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন বলে তিনি দাবি করেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :