ঝালকাঠি পৌরসভার খেয়াঘাটে নবনির্মিত যাত্রীঘাটলা এখন যাত্রী ও নৌকার মাঝিদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। মাত্র ৬ মাস আগে পৌরসভার ২লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিত এই ঘাটলার প্লেনসিট ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নৌকা মাঝিদের অভিযোগ, ঘাটলা নির্মাণের সময় বারবার পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে কাজের মান ও মানসম্মত প্লেনসিট ব্যবহারের দাবি জানানো হলেও তা উপেক্ষা করা হয়।
নিম্নমানের প্লেনসিট ব্যবহার করেই তড়িঘড়ি কাজ শেষ করা হয়। এখন সেই প্লেনসিট এতটাই নাজুক অবস্থায় রয়েছে যে, মেরামতেরও কোনো সুযোগ নেই।
জানা গেছে, প্রতিটি প্লেনসিটের আকার ছিল ৮ ফুট বাই ৪ ফুট। বর্তমানে সেগুলো ভেঙে বিভিন্ন খণ্ডে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শত শত যাত্রী এই ঘাট ব্যবহার করেন। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক যাত্রী ইতোমধ্যে অল্পের জন্য দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নৌকা মাঝি শ্রমিক ইউনিয়ন ঝালকাঠি সদর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ হেমায়েত হোসেন বলেন, “নবনির্মিত ঘাটলা হওয়ার কথা ছিল যাত্রীদের নিরাপত্তার প্রতীক। অথচ আজ সেটাই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে স্কুল কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক নানা শ্রেনী পেশার মানুষজন খেয়া পারাপার হয়। দ্রুত প্লেনসিট পরিবর্তন করে সংস্কার না করলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
তিনি অবিলম্বে ভাঙা প্লেনসিটগুলো খুলে ফেলে নতুন ও মানসম্মত প্লেনসিট বসানোর দাবি জানান। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয়রা বলেন, ঘাটের এমন অবস্থা হেটেও ট্রলারে ওঠা যায়না তারপরতো মটোরসাইকেলট অথবা বাই সাইকেল নিয়ে ঘাটের উপরে উঠলে পা নিচের দিকে বসে যায়। এরকম একটা জনগুরুত্বপূর্ন খেয়াঘাটে উন্নয়ন কাজ নিম্নমানের উপকরণে করলে জনগণের নিরাপত্তাই প্রশ্নের মুখে পড়ে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার দায় এড়াতে পারবে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এবিষয় পৌর প্রশাসক মো: কাওসার হোসেন বলেন, পৌরসভার প্রকৌশলী আমাকে বিষয়টি জানালে আমি ঘাটলাটি পরিদর্শন করেছি।
আজকালের কন্ঠ/আর বি