পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় এলাকায় টানা তিন দিন ধরে ঘন মেঘ ও কুয়াশার আবরণে সূর্যের দেখা মেলেনি। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত চারপাশ ঢেকে থাকছে ঘন কুয়াশায়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা, যার ফলে রাস্তাঘাট ও পরিবেশ শিশিরে ভিজে থাকছে সারাক্ষণ।
ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে করে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে মহাসড়ক ও উপকূলীয় সড়কগুলোতে চলাচলে চরম সতর্কতা অবলম্বন করছেন চালকরা।
খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও গতকালের তুলনায় তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে, তবে সূর্যের দেখা না পাওয়ায় ঘন ও হিম বাতাসে শীতের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর শ্রমিক, কৃষক, রিকশা, ভ্যান ও বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। জীবিকার তাগিদে অনেকেই কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই কাজে বের হলেও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। শীত নিবারণের জন্য কেউ কেউ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর চেষ্টা করছেন।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশা ও ঠান্ডায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শীতকালীন সবজি চাষিরা। পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়ায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। পাশাপাশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় আরও কয়েক দিন কুয়াশা ও শীতের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজকালের কন্ঠ/ আর এস/এম