Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ২:৪৮ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫ , ৩:০২ অপরাহ্ণ

২০ টাকা ভাড়ার জন্য বন মামলায় হয়রানির শিকার অটোরিকশা চালক

লেখকঃ মো: রিয়াজ, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:

বন বিভাগে কর্মরত একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে ভাড়া আদায় করতে চাওয়ায় বিশ টাকা ভাড়া না দেওয়ার অভিযোগে অটোরিকশা চালক আব্দুস সাত্তার (৫২) দুই বছর ধরে মিথ্যা বন মামলার শিকার হচ্ছেন।

সরকারি জমিতে আশ্রিত বসতবাড়িতে কাঁচা ভিটির টিনসেড ঘর থাকলেও মামলায় দেখানো হয়েছে, তিনি পাকা দালান নির্মাণের চেষ্টা করছেন। জব্দ দেখানো হয়েছে—গজারি কপিস গাছ, বালি, ইট, সিমেন্ট, দাও কুনি।

এই ঘটনা ঘটেছে শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার সীমান্তবর্তী সন্ধ্যাকুড়া গ্রামে। সরেজমিনে গেলে জানা যায়, মহারশি নদীর পশ্চিম তীরে বন বিভাগের জায়গায় কয়েকটি পরিবারের বসবাস প্রায় চল্লিশ বছর ধরে। তবে সেখানে আগে বনভূমি না থাকায় সামাজিক বনায়ন করা হয়েছিল। পূর্বে ওই জমিতে ছিল ঝোপঝাড় ও মানুষের বসতি।

ভূমিহীনদের এ বসতির একজন বাসিন্দা অটোরিকশা চালক আব্দুস সাত্তার। তিনি এক সময় দিনমজুরের কাজ করতেন। বর্তমানে চার কন্যা ও স্ত্রী নিয়ে তার সংসার অটোরিকশা চালিয়ে চলে। এর মাঝেই বন বিভাগের দায়ের করা মামলায় তাঁর ভাগ্যে কষ্ট এসে পড়েছে।

২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর মামলাটি করেন তৎকালীন সন্ধ্যাকুড়া বিট কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। মামলায় উল্লেখ করা হয়, আব্দুস সাত্তারসহ চারজন আসামী গজারি বনের কপিস গাছ কেটে ভূমির আকৃতি পরিবর্তন করে ইট, বালি ও সিমেন্ট দিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করছিলেন।

এলাকাবাসী ও প্রতিবেশীরা জানান, আব্দুস সাত্তার যেখানে বসবাস করেন সেখানে কোনো গজারি বন নেই। এছাড়া তার পাকা ঘর নির্মাণের সামর্থ্যও নেই। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পাহাড়ি ঢলের সময়ও তিনি এবং তার পরিবার বাড়ির টিনের চালার উপরে বসে একদিন কাটিয়েছেন। অটো চালিয়ে সংসার চালানোই তার দায়, সেখানে ইট দিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণ কল্পনাপ্রসূত।

ঘটনার সূত্র ধরে জানা যায়, মামলার কয়েকদিন আগে ঝিনাইগাতি থেকে সাত্তার তার অটোরিকশা নিয়ে সন্ধ্যাকুড়া অফিসে যান। সেখানে তিনি তৎকালীন বিট কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে ভাড়ার বিশ টাকা দাবি করেন। বিট কর্মকর্তা নিজেকে ‘ফরেস্ট স্টাফ’ পরিচয় দিয়ে ভাড়া দিতে অস্বীকার করেন। বাকবিতন্ডার পর সাত্তার ভাড়া দিয়ে চলে যান। কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন, তার নামে বন বিভাগ মামলা করেছে।

ভুক্তভোগী আব্দুস সাত্তার জানান, অটোরিকশা চালিয়ে তিনি দিনে মাত্র ৩-৪শ টাকা রোজগার করেন। এটি দিয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। মামলার কারণে একদিন হাজিরা দিতে গিয়ে প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয়। কোন মাসে দুই-তিনবারও আদালতে যেতে হয়। ২০ টাকা ভাড়ার জন্য দুই বছর ধরে মামলা টানতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বন বিভাগের এসব মামলার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত হয় না। যদি তদন্ত হতো, তাহলে সত্য বেরিয়ে আসত।

প্রতিবেশি মমিন মিয়া বলেন, “সাত্তার ভাই একজন অটোরিকশা চালক। কখনো পাকা বাড়ি করার সামর্থ তার ছিল না, এখনো নেই। রাজমিস্ত্রীর কাজও সে কখনো করেনি। তার বাড়ির আশপাশে গজারি বনও নেই। তাহলে কিভাবে তার বিরুদ্ধে গজারি কপিস গাছ কেটে পাকা বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করার অভিযোগ সত্য হতে পারে?

অন্যান্য প্রতিবেশীরাও সাত্তারের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।মোবাইলে জানতে চাইলে তৎকালীন বিট কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, যারা পাকা স্থাপনা করতে গিয়েছিল, সাত্তার হয়তো তাদের লেবার হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। তিনি রাজমিস্ত্রী নন, একজন অটোরিকশা চালক—এই ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

আজকালের কন্ঠ/ আর এস/আর

প্রিন্ট করুন