Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫ , ৫:৪৯ অপরাহ্ণ

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধু আবেগের বিষয় নয়, বরং বাস্তব রাজনীতিরও বড় পরীক্ষা

লেখকঃ আজকালের কন্ঠ ডেস্ক:

যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের দীর্ঘ নির্বাসন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছেন। অনেক অপেক্ষা, প্রতীক্ষা, অনেক জল্পনা-কল্পনা, অনেক অপপ্রচার ও প্রতিবন্ধকতা-বৈরিতা ডিঙিয়ে তার এ প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক যুগান্তকারী ঘটনা।

গত বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২৫ ডিসেম্বর তিনি লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরেন, যা শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও এক আবেগঘন মুহূর্ত। এ এক ঐতিহাসিক দিনও বটে। রাজধানী ঢাকায় তার আগমনকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সর্বত্র বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

প্রিয় নেতার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে, মজলুম এ নেতার দেশে ফেরার জন্য নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের যে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা, অবশেষে তার অবসান ঘটেছে। আমরা দেখছি, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলীয় কাঠামোতে সৃষ্টি হয়েছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য। এ প্রত্যাবর্তন বিএনপির জন্য একদিকে যেমন দলটিকে পুনর্গঠনের সুযোগ এনে দিয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রেও তৈরি করেছে নতুন সমীকরণ।

তবে রাজনীতির এ পথে চ্যালেঞ্জও কম নয়। দীর্ঘ নির্বাসনের পর যখন তিনি দেশে ফিরেছেন, তখন কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতাও বদলে গেছে। দেশ গণতন্ত্রের প্রশ্নে এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা ভিন্ন প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে আসছেন। তবে তিনি ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছেন, তিনি আস্থার প্রতিদান দিতে সক্ষম।

এ প্রত্যাবর্তন শুধু আবেগের বিষয় নয়, বরং বাস্তব রাজনীতিরও বড় পরীক্ষা। অন্যদিকে সরকারের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জীবনেও এ প্রত্যাবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। দেশে ফিরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তিনি প্রথমেই তার অসুস্থ মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এটি শুধু পারিবারিক আবেগ নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতীকও বটে।

আমরা জানি, ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারেক রহমান ও তার পরিবার কীভাবে নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হন। তাকে গ্রেফতার, শারীরিক নির্যাতন, দুর্নীতির মামলায় জড়িয়ে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা হয়। এমনকি বিগত সরকারও তারেক রহমানের নেতৃত্বের গুণাবলি টের পেয়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার হেন কৌশল নেই, যা প্রয়োগ করেনি।

কারণ, বিগত সরকারগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল তারেক রহমান ও তার পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে অকার্যকর করে দেওয়া। কিন্তু মেঘের চাদর কখনোই সূর্যের দীপ্তিকে আড়াল করতে পারে না, তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে মা-ছেলের উপস্থিতি দলকে নতুন করে সংগঠিত করতে সহায়ক হবে নিশ্চয়ই।

আজকালের কন্ঠ/ আর এস

প্রিন্ট করুন