সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ বাগানজুড়ে শুধু বরই আর বরই গাছ। চোখ যতদূর যায়, থোকায় থোকায় ঝুলছে ছোট-বড় ফল। কোথাও কোথাও ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডাল। একসঙ্গে প্রায় পাঁচ শতাধিক ৬ থেকে ৭ ফুট উচ্চতার বরই গাছের এমন দৃশ্য যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। ‘বল সুন্দরী’ ও ‘আপেল কুল’ জাতের বরই চাষ করে মাত্র এক বছরের মধ্যেই অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের টিয়াখালী গ্রামের ফকরুদ্দিনের ছেলে উদ্যোক্তা মো. মিজানুর রহমান।
আকার ও স্বাদে মানসম্মত হওয়ায় বাজারে এই বরইয়ের চাহিদাও বেশ ভালো। আর এই বরই বিক্রি করেই বদলে গেছে মিজানুর রহমানের জীবন। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গা থেকে ৩৫০টি বরইয়ের চারা কিনে এবং কৃষি অফিস থেকে আরও ৭৫টি চারা সংগ্রহ করে বাবার ১০০ শতাংশ জমিতে বরই বাগান গড়ে তোলেন। মাত্র ২৪ হাজার টাকা খরচ করে শুরু করা এই উদ্যোগে এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি বরই ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে বাগান থেকে প্রায় ১০০ মণ বরই পাওয়ার আশা করছেন তিনি। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে প্রতি মণ ৭ হাজার ২০০ টাকা দরে প্রায় ৭ লাখ টাকার বরই বিক্রি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বাগানের কর্মচারী আবুল হোসেন ফরাজি জানান, বাগান শুরুর সময় থেকেই তিনি এখানে কাজ করছেন। এখন আর বাইরে কাজের খোঁজে যেতে হয় না। নিজের আনন্দেই বাজারে বরই বিক্রি করতে যান তিনি। আরেক কর্মচারী রিপন হাওলাদার বলেন, নতুন করে আরও বরইয়ের চারা রোপণ করা হচ্ছে, যা আগামী দুই বছরের মধ্যে ফল দেবে।
বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম রনি বলেন, কলাপাড়ার এত কাছে এত বড় বরই বাগান আছে তা আগে জানা ছিল না। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শুনে দেখতে এসে অনুপ্রাণিত হয়েছেন উদ্যোক্তা হওয়ার। আরেক দর্শনার্থী মজিবুল ইসলাম জীবু বলেন, বাগানের বরই খেয়ে দেখেছেন, খুবই সুস্বাদু। শহরের কাছাকাছি এমন বড় বাগান সত্যিই বিস্ময়কর।
আজকালের কন্ঠ/আর বি