Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১০:৫৩ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ ডিসেম্বর ২১, ২০২৫ , ৬:০৩ অপরাহ্ণ

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীর মিথ্যা মামলা ও হুমকির প্রতিবাদে রাখাইন সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

লেখকঃ কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তির উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা ও হুমকি-ধামকির প্রতিবাদে কুয়াকাটার আলীপুর মানববন্ধন করেছে রাখাইন আদিবাসী সম্প্রদায়। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আলীপুর থ্রি পয়েন্ট এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনের আয়োজন করে রাখাইন বুডিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, রাখাইন সমাজকল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এবং পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের সর্বস্তরের জনগণ।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী অংশাচিং ও তার স্ত্রী লাচাউ দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে কালাচানপাড়া রাখাইন পল্লীর বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে এলাকার নিরীহ রাখাইন পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তি কারাবরণ করেছেন এবং বহু পরিবার বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বক্তারা জানান, ২০০০ সালে লাচাউ তার স্বামী অংশাচিংকে নিজ মালিকানাধীন ও ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত ভূমি দেখভাল ও বিক্রির জন্য আইনানুগ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করেন, যা তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত ছিল। ওই ক্ষমতাবলে অংশাচিং জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে একাধিক ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করেন।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১১–১২ বছর পর ২০২২ সালে লাচাউ দেশে ফিরে এসে পূর্বে দেওয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অস্বীকার করে বৈধভাবে জমি ক্রয় করা মালিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের শুরু করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, ভূমির বর্তমান বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অবৈধভাবে অতিরিক্ত লাভের আশায় এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, যা রাখাইন সম্প্রদায়ের সামাজিক শান্তি ও অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী অংশাচিং দেশে না থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতারা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে তারা রাখাইন পল্লীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন