Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৬:১৭ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫ , ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

সীমান্ত পেরিয়ে হামলাকারীর পালানো? হালুয়াঘাটে প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা

লেখকঃ শেরপুর জেলা প্রতিনিধি

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত দুই সন্দেহভাজন, ফয়সাল ও আলমগীর, স্থলপথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করেনি, ফলে ঘটনায় জনমনে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার মাত্র বারো ঘণ্টার মধ্যেই ফয়সাল ও আলমগীর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান। সেখানে গারো সম্প্রদায়ের ফিলিপ স্নাল নামের এক মানবপাচারকারীর সহায়তায় তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হন।

সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, ফিলিপ স্নাল একসময় ভারতের আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা) এর সক্রীয় সদস্য ছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশে উলফার তৎপরতা বন্ধ হয়ে গেলে ফিলিপসহ স্থানীয় ৮-১০ জনের একটি সিন্ডিকেট জড়িয়ে পড়ে অবৈধ পথে ভারতে মানব পাচার ও চোরাকারবারের সাথে। প্রায় ৫ বছর আগে নালিতাবাড়ী উপজেলার বারমারী এলাকার ইয়ারসন রংদীর মেয়ে ডেলটা চিরানকে বিয়ে করে সে। গারো আদিবাসীদের রীতি অনুযায়ী শশুর বাড়ি বসবাসের নিয়ম থাকলেও এখানে স্থায়ী ছিল না ফিলিপ। প্রায় অর্ধেক সময় থাকতো নিজের পিত্রালয় ভুটিয়াপাড়ায়। এখানে থেকেই মানব পাচার ও চোরাকারবারী চালাতো সে। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি জুয়েল আরেং সংসদ সদস্য থাকাকালে তার পরোক্ষ মদদে হালুয়াঘাট সীমান্তে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায় চোরাচালান। এ চোরাচালানের হোতাদের মধ্যে অন্যতম হলো ফিলিপ ও তার সিন্ডিকেট।

স্থানীয় তথ্যমতে, ফিলিপ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করে বলে জানা গেছে। এ চক্রে পাওয়া গেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেনের নামও। মূলত বিল্লাল হোসেন হলো এ ‘সীমান্তের ডন’ হিসেবে পরিচিত। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে তার যেমন যোগাযোগ রয়েছে, তেমনি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী থেকে উপর মহলেও তার বড় ধরণের যোগাযোগ রয়েছে। ভারতে কোন বাংলাদেশী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলে বিল্লাল হোসেন এর ‘একটি ফোনই যথেষ্ট’ এমন কথাও শোনা যায় এলাকায়। বিএসএফ থেকে ভারতীয় ‘র’ এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করে বিল্লাল হোসেন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সময় ফিলিপ ও তার সহযোগীদের সাথে অপরিচিত লোকজন আসতো। দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কাঁটা তারের বেড়া ডিঙিয়ে, কখনো নদীপথে কখনো বা কাঁটা তারের বেড়ার নিচে থাকা পানি প্রবাহের সুরঙ্গ পথে (রিং কালভার্ট) মানব পাচার করা হতো। কখনো কখনো মানব পাচারের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মাঝে মতানৈক্য তৈরি হলে নিজে থেকেই তারা মানব পাচারের কথা অন্যদের বলে দিতো।

ময়নসিংহের ৩৯ বিজিবির সেক্টর সদর দপ্তরে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকায় ওসমান হাদির ওপর গুলি বর্ষণের পর অভিযুক্তদের পালানো ঠেকাতে বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ৩৯ বিজিবির অধীন সীমান্তের সম্ভাব্য রুটগুলো চিহ্নিত করে টহল ও চেকপোস্ট বসানো হয়। হামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এ অঞ্চল দিয়ে ভারতে পালালে ফিলিপ ভালো বলতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন