দিন দিন বদলে যাচ্ছে পটুয়াখালীর উপকূলীয় মানুষের জীবনচিত্র। নোনতা মিষ্টি স্বাদের এক প্রাকৃতিক গুড় ‘গোলের গুড়’-এখন শুধু খাদ্যপণ্য নয়, বরং উপকূলীয় জনজীবনের টিকে থাকার শক্ত ভিত্তি হিসেবে উঠে এসেছে। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করা এই অঞ্চলে যেখানে চাষাবাদ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত, সেখানে স্থানীয়ভাবে জন্মানো গোলগাছের রস বহু পরিবারকে এনে দিয়েছে বিকল্প ও স্থায়ী আয়ের পথ।
পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে বিস্তৃত প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে স্বাভাবিকভাবেই জন্মায় গোলগাছ। লবণাক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই গাছের রস থেকে তৈরি হয় বিশেষ স্বাদের গুড়, যার নোনতা মিষ্টি স্বাদ ও অনন্য সুবাস আলাদা করে চেনার মতো। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাজারে গোলের গুড়ের কদর থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই পণ্য এখন উপকূলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে।
কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবুল চন্দ্র মিস্ত্রী বহু বছর ধরে গোলের রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনি গোলগাছে মাটির কলস ঝুলিয়ে দেন। রাতভর ফোঁটা ফোঁটা করে জমে রস। ভোরের আলো ফোটার আগেই সেই রস সংগ্রহ করে চাতালে তোলা হয়। এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল দিয়ে রস দিয়ে তৈরি করা হয় গুড়। বাবুল চন্দ্র মিস্ত্রীর মতো শত শত মানুষ বছরের এই তিন মাসের মৌসুমকে ঘিরেই সংসারের বড় একটি ভরসা খুঁজে পান।
স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে গোলের গুড় এখন পাইকারদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও পৌঁছে যাচ্ছে। শীত মৌসুম এলেই উপকূলজুড়ে বাড়ে কর্মচাঞ্চল্য। বর্তমানে পটুয়াখালী জেলায় প্রায় ১০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে ৫ শতাধিক পরিবার গোলগাছের রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। বাজারে কেজিপ্রতি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া এই গুড় কৃষকদের জন্য তৈরি করছে প্রতিদিনের নগদ আয়ের সুযোগ। গড়ে একজন কৃষক প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ কেজি গুড় উৎপাদন করে আয় করছেন প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা।
আজকালের কন্ঠ/আর বি