নড়াইলের লোহাগড়ায় যথাযথ মর্যাদা ও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ৫৪ তম মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে ভোরে লোহাগড়া থানা প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনীর মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসুচি শুরু হয়। কর্মসুচীর মধ্যে ছিল সকাল সাড়ে ৭ টায় উপজেলা চত্বরে অস্থায়ী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পণ। সূর্য্যদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, লোহাগড়া লক্ষীপাশা মোল্যার মাঠে বিভিন্ন সংগঠনের কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে, শহীদদের কবর জিয়ারত, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭ টায় লোহাগড়া উপজেলা চত্বর মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার।
পর্যায়ক্রমে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, লোহাগড়া পৌরসভা, লোহাগড়া থানা, লোহাগড়া প্রেসক্লাব, উপজেলা বিএনপি, লোহাগড়া পৌর বিএনপিসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, উপজেলা ফায়ার সার্ভিস, লোহাগড়া নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ শহীদদের স্মরণে উপজেলা চত্বর স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন।
স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পমাল্য শেষে সকাল ৯টায় লোহাগড়া লক্ষীপাশা মোল্যার মাঠে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কবুতর উড়িয়ে বিজয় দিবসের শুভ উদ্ধোধন ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
পরে কুচকাওয়াজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার ও লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ, আবুল কাশেম ছালাম গ্রহণ করেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষে সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সারের সভাপতিত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস. এম হায়াতুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মোসা: সাদিয়া সুলতানা, লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আহাদুজ্জামান বাটু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শামচুল আলম কচি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান মোল্যা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির ইলিয়াস হোসেন, সাংবাদিক রইচ উদ্দিন টিপু, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সিকদার শাহ আলম, কাজী ইমরানসহ প্রমুখ।
এছাড়াও উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেনিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা করা হয়।
আজকালের কন্ঠ/আর বি