Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৬:২০ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ , ১:২৭ অপরাহ্ণ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে পবিপ্রবিতে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

লেখকঃ দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্যভাবে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল সোয়া ৯টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এতে ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা, ডিন কাউন্সিলের কনভেনর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, প্রভোস্ট, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।

র‌্যালি শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনসার সদস্যরা উপাচার্যকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন হল প্রশাসন, বিভাগ, ছাত্র সংগঠন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

এরপর শহীদ মিনারের পাদদেশে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবদুল লতিফ এবং ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. সুজাংগীর কবির সরকার।

আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, এটি ন্যায়, মানবিকতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে দেশ গঠনে সম্পৃক্ত করাই আজকের দিনের প্রধান অঙ্গীকার।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্তবুদ্ধির চর্চাকেন্দ্র, যেখানে ইতিহাস ও দেশপ্রেম শিক্ষার্থীদের চিন্তা-চেতনায় প্রতিফলিত হবে। শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

দিবসটি উপলক্ষে বেলা ১১টায় সৃজনী বিদ্যানিকেতনে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে।

দুপুরে শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দুই দিন আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন