Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫ , ১:৪৬ অপরাহ্ণ

অবৈধ ড্রেজারে উজাড় হচ্ছে বারেশ্বর বিল, হুমকিতে মুরাদনগরের তিন ফসলি কৃষিজমি

লেখকঃ কাজী শরীফ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আন্দিকুট ইউনিয়নের ডালপা মৌজার বারেশ্বর বিলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকার উর্বর তিন ফসলি কৃষিজমি ভয়াবহ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। মাটির উপরিভাগ সরে যাওয়ায় কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং ক্ষতির শিকার হচ্ছেন আশপাশের জমির মালিক ও কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে বারেশ্বর বিলে অন্তত দুটি ড্রেজার গর্ত সক্রিয় রয়েছে, যেগুলো প্রায় ২০০ গজ ব্যবধানে অবস্থিত। প্রতিটি গর্তে প্রায় ৩০০ শতক জমি খনন করা হয়েছে। ফলে মোট প্রায় ৬০০ শতক জমির স্বাভাবিক গঠন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বিলের পানি ধারণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমিতেও।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেজার ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন ও নাসির সরকার দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বারেশ্বর বিলে ড্রেজার চালিয়ে মাটি উত্তোলন করে আসছেন। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জুনায়দ আহম্মদ মানবকণ্ঠকে বলেন, “বাঙ্গরা বাজার থানা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েও ড্রেজারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত এসব ড্রেজার স্থায়ীভাবে বন্ধ না করা হলে আমাদের পূর্বপুরুষের জমিগুলো ড্রেজারের গর্তে বিলীন হয়ে যাবে।”

স্থানীয় কৃষকরাও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে অচিরেই বারেশ্বর বিলে চাষাবাদ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে কৃষকদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে এবং এলাকার কৃষিনির্ভর অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ড্রেজার ব্যবসায়ী নাসির সরকার বলেন, তিনি প্রায় ১০ বছর আগে ড্রেজার চালালেও বর্তমানে আর পরিচালনা করছেন না। ওই স্থানে একটি ফিসারিজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ড্রেজার পুনরায় স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশপাশের জমির মালিকদের আপত্তি ও অভিযোগ থাকায় আপাতত সেখানে আর ড্রেজার বসানো হবে না।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান মানবকণ্ঠকে বলেন, “আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর কোরবানপুর এলাকায় ইতোমধ্যে ২৫-৩০ বার অভিযান পরিচালনা করেছি। অভিযোগ পেলেই আমরা অভিযানে যাই। ড্রেজারগুলো বিলের মাঝখানে থাকায় অপরাধীদের পাওয়া কঠিন হয়, তাই আমরা ড্রেজার অপসারণ করি। ড্রেজারে মাটি উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে জমির মালিকদের নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ না করা হলে বারেশ্বর বিলসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন