Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ ডিসেম্বর ৬, ২০২৫ , ৬:০৮ অপরাহ্ণ

দেবিদ্বারে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পুনর্মিলনী ও ‘প্রীতি সমাবেশ ২০২৫’ অনুষ্ঠিত

লেখকঃ কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি :

কুমিল্লার দেবিদ্বার এস এ সরকারি কলেজ মাঠে শনিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সদস্যদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো প্রাণবন্ত ও স্মৃতিমধুর পুনর্মিলনী ‘প্রীতি সমাবেশ ২০২৫’। বহুদিন পর একই মঞ্চে প্রাক্তন নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় হাসি-আনন্দ, আলাপ ও স্মৃতিচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে কলেজ মাঠ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মু. জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন—মু. নজরুল ইসলাম খাঁদেম, সাবেক সভাপতি কুমিল্লা–নোয়াখালী অঞ্চল; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা উত্তরের আমির অধ্যাপক মু. আব্দুল মতিন; কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগরের সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুহাম্মদ ফারুক; কুমিল্লা উত্তর জেলার সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলাম শহীদ; ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মো. মোবারক হোসাইন; কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি মো. সানাউল্লাহ রাসেল; দেবিদ্বার পৌর আমির মো. ফেরদৌস আহমেদ এবং দেবিদ্বার এস এ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মো. গোলাম মোস্তফা সরকার।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেবিদ্বার উপজেলা শাখার আমির অধ্যাপক মু. শহীদুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, ছাত্রশিবির শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়—এটি নৈতিকতা, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গঠনের এক প্রশিক্ষণমঞ্চ। এখান থেকে অর্জিত মূল্যবোধ ব্যক্তিজীবন ও সমাজ গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। দেশের কল্যাণ, সামাজিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের পথে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা নিয়েও তারা গুরুত্বারোপ করেন। নতুন প্রজন্মকে আদর্শিক চেতনা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জরুল আহসান মুন্সীর পুত্র এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রেজভিউল আহসান মুন্সী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামী সুসংগঠিত ও আদর্শভিত্তিক দল; আমাদের বিএনপিতে এখনো সেই মাত্রার শৃঙ্খলা গড়ে ওঠেনি।” তাঁর এ বক্তব্য উপস্থিতদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করে। তিনি ছাত্রশিবিরের ধারাবাহিক সাংগঠনিক শক্তি ও আদর্শিক দৃঢ়তারও প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ, মুক্ত আলোচনা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে পুনর্মিলনে অনেকে যেন ফিরে যান তাঁদের ক্যাম্পাস জীবনের দিনগুলোয়। ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও হৃদয়ের বন্ধনে আয়োজনটি রূপ নেয় এক উজ্জ্বল মিলনমেলায়।

দেবিদ্বারে আয়োজিত এই প্রীতি সমাবেশ শুধু পুনর্মিলনী নয়; বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আদর্শ, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ হস্তান্তরের এক প্রতীকী অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন-পুরাতন সবার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় আত্মবিশ্বাস, বন্ধুত্ব ও সংগঠনী চেতনার অনবদ্য উৎসবে।

আজকালের কন্ঠ/আর এস/এস

প্রিন্ট করুন