পটুয়াখালীর বাউফলে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত এম এ ব্রিক নামে একটি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা, গ্রেপ্তার এবং ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে নুরাইনপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ মিলুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা, বাউফল থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।লাইসেন্স–ছাড়াই ভাটা পরিচালনা অভিযানের সময় ভাটার মালিকপক্ষ কোনো বৈধ ব্যবসায়িক লাইসেন্স বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেখাতে পারেননি। কৃষিজমির উর্বর মাটির ওপরি-স্তর কেটে মাটি সংগ্রহের প্রমাণও পাওয়া যায়—যা বালু মহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০–এর লঙ্ঘন।
নিষিদ্ধ ড্রাম চিমনি ও কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ ইটভাটায় নিষিদ্ধ ড্রাম চিমনি ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা তীব্র বায়ুদূষণ সৃষ্টি করে জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলে। পাশাপাশি ভাটার পাশের একটি স’মিল থেকে কাঠ এনে ইট পোড়ানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে—যা পরিবেশ ও বনসম্পদ দুটোর ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।৫০ হাজার টাকা জরিমানা, গ্রেপ্তার ২ ভ্রাম্যমাণ আদালত ভাটাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। জরিমানা পরিশোধ না করলে ভাটার ম্যানেজার তাপস পালকে তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দেওয়া হয়।
ভাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে আরও দু’জনকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।অভিযান শেষে ইটভাটাটি থানা পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া ভাটা পুনরায় চালু করা হলে নিয়মিত মামলা দায়েরের সতর্কবার্তাও দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ মিলু। জনগণের স্বস্তি স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনুমোদনহীনভাবে ভাটা পরিচালনার কারণে এলাকায় বায়ুদূষণ বাড়ছিল। শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি কৃষিজমির মাটিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। প্রশাসনের অভিযানে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
আজকালের কন্ঠ/আর এস/এ