Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ ডিসেম্বর ৪, ২০২৫ , ৮:২৮ অপরাহ্ণ

গোপালগঞ্জ পুলিশের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা বাণিজ্য’-এর বিস্ফোরক অভিযোগ

লেখকঃ বিশেষ প্রতিনিধি, শাহাজাদী সুলতানা

গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের কয়েকটি থানা এখন গুরুতর প্রশ্নের মুখে।সম্প্রতি গোপালগঞ্জ জেলার বেশ কয়েকটি থানায় কর্মরত ওসিসহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা বাণিজ্য’-এর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের সপক্ষে এমন এক ভয়ংকর ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং জেলা পুলিশ প্রশাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিতে যথেষ্ট। এই কেলেঙ্কারি মুহূর্তের মধ্যে সাধারণ মানুষের পুলিশ প্রশাসনের উপর থাকা ন্যূনতম আস্থাও ভেঙে দিতে পারে।

অন-ক্যামেরা ‘ঘুষের বান্ডিল গোনা’: ওসির মুখে ‘সেই স্বাদের’ স্বীকারোক্তি!ভুক্তভোগের পরিবারের কাছ থেকে ঘোষের টাকা বাবদ যে লেনদেনের যে ভিডিও ফুটেজ প্রতিবেদকের কাছে এসেছে, তাতে দেখা যায় – থানার ভেতরেই অত্যন্ত আনন্দের সাথে টাকার বান্ডিল গোনা হচ্ছে! সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, একজন পদস্থ ওসি (অফিসার ইন চার্জ)-কে সেখানে বলতে শোনা যায়, “ঘুষের টাকার সেই স্বাদ… আহ! আহ!”। এই মন্তব্যটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে কীভাবে কিছু অসাধু কর্মকর্তা দিনের পর দিন আমোদ-ফুর্তিতে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

নিরীহ মানুষ, মিথ্যা মামলা, আর বিচ্ছিন্ন পরিবার ঐতিহাসিকভাবেই গোপালগঞ্জ জেলা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ আশা করেছিল, স্বৈরাচারী শাসনামল থেকে বেরিয়ে আসা পুলিশ প্রশাসন এখন জনবান্ধব হবে। কিন্তু এই ‘তবারক সিন্ডিকেট’-এর সদস্যরা সেই আশার মূলে কুঠারাঘাত করছে। তারা কারা?
* তারা সেই পুলিশ কর্মকর্তা, যারা নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করছেন।
* তারা সেই কর্মকর্তা, যারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দিনের পর দিন টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

পাহাড়সমান প্রমাণের মুখে ঔদ্ধত্য: “নিউজ করলে করেন, ব্যাপার না!”
অভিযোগের তীব্রতা যখন পাহাড়সমান, তখন অভিযুক্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার আচরণ ছিল আরও বেশি ঔদ্ধত্যপূর্ণ। তাকে প্রমাণসহ অভিযোগের মুখোমুখি করা হলে তিনি নির্দ্বিধায় বলেন,”এগুলো আপনারা (সাংবাদিক) যা পারেন তাই করেন, নিউজ করলে করেন? কেথায় নিউজ করবেন? ব্যাপার নাহ! আপনাদের কিছু আইনের বই পড়া উচিত।”

এই ধরনের মন্তব্য শুধু ক্ষমতার অপব্যবহারকেই নয়, আইনের প্রতি তাদের চরম অশ্রদ্ধা এবং দায়মুক্তির মনোভাবকেও প্রকাশ করে। প্রশ্ন হলো, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পাওয়া এই কর্মকর্তারা কার বা কিসের জোরে এমন ঔদ্ধত্য দেখাতে সাহস পান?

প্রথম পর্বের আকর্ষণ: ৭ পর্বের ধারাবাহিক অনুসন্ধানের সূচনা এই ভয়াবহ কেলেঙ্কারির নেপথ্যের অদৃশ্য শক্তির হোতা? সিন্ডিকেটের সদস্যদের পরিচয় ও তাদের
‘মিথ্যা মামলা বাণিজ্য’-এর জাল উন্মোচন করতে আমরা শুরু করছি ‘ধারা ৫’ শীর্ষক ৭ পর্বের ধারাবাহিক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন।

আজ থাকছে প্রথম পর্বের সূচনা: এই পর্বে আমরা মূলত ভিডিও ফুটেজের বিস্ফোরক তথ্য, ওসির মন্তব্য, এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যকে সামনে আনলাম।

শীঘ্রই আসছে: দ্বিতীয় পর্বে আমরা জানতে পারবেন-
> ‘তবারক সিন্ডিকেট’-এর মূল হোতা কারা?
>মিথ্যা মামলা তৈরির ‘কৌশল’ ও তাদের টার্গেট কারা?
>পুলিশের এই বাণিজ্যে আর কোনো প্রশাসনের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার যোগসাজশ আছে কি না?

চোখ রাখুন!অাজকালের কন্ঠ পত্রিকার পেজে,ন্যায়বিচারের দাবিতে,আমরা তুলে ধরব গোপালগঞ্জ পুলিশের অভ্যন্তরের অপরাধের অভয়ারণ্যের গল্প।
বি,দ্র:পরবর্তী অনুসন্ধানের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যের সন্ধান দিতে চান?

প্রিন্ট করুন