পটুয়াখালীর বাউফলে ঢাকাগামী অন্তরা ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা ৪৬২ কেজি শাপলাপাতা মাছ জব্দ করেছে বন বিভাগ ও বাউফল থানা পুলিশ। রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে থানার সামনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জব্দ হওয়া পাঁচটি বিশাল আকারের সামুদ্রিক মাছের ওজন যথাক্রমে ১১৬, ১১২, ৮১, ৮১ ও ৬২ কেজি—মোট ৪৬২ কেজি। আন্তর্জাতিকভাবে বিপন্নপ্রায় এই প্রজাতির মাছ ধরা, পরিবহন বা মজুত বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কীভাবে ধরা পড়ল চালান
উপজেলা বন কর্মকর্তা বদিউজ্জামান সোহাগ জানান, ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকা থেকে মোট ১০টি শাপলাপাতা মাছ পাচারের চেষ্টা চলছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই বাসটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এতে পাঁচটি মাছ জব্দ করা হলেও অভিযোগে উল্লেখ থাকা বাকি পাঁচটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, “সামুদ্রিক বন্যপ্রাণী পরিবহন বা বেচাকেনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনায় বন্যপ্রাণী আইন ছাড়াও মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাও প্রযোজ্য হতে পারে।”
চালক ও সহকারী আটক
ঘটনার পর বাসের চালক ও সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাছ পরিবহনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি। আন্তজেলা পাচারচক্রের সঙ্গে কারা জড়িত—তা শনাক্তে তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণপরিবহন ব্যবহার করে সামুদ্রিক বন্যপ্রাণী পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। বড় ধরনের এমন একটি চালান আটকের ঘটনা স্বস্তিদায়ক।
জব্দ করা মাছের আইনগত অবস্থান
বন বিভাগ জানায়, জব্দ করা শাপলাপাতা মাছ আইনের বিধান অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
শাপলাপাতা মাছ ও আইন
শাপলাপাতা মাছ সামুদ্রিক রে প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিপন্নপ্রায়। বাংলাদেশে এই প্রজাতি বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২–এর তফসিলভুক্ত; ফলে এদের ধরা, মারা, পরিবহন, বিক্রি বা দখলে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫–এর বিধানও প্রযোজ্য