মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের দুই ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব—ইমাম মাওলানা মো. আবদুল কাদের এবং মুয়াজ্জিন মাওলানা আমজাদ হোসেন—দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে সসম্মানে বিদায় নিলেন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করে তাঁরা যে সততা, নৈতিকতা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা মুরাদনগরের ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের কবি নজরুল মিলনায়তনে আয়োজিত বিদায় ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে ক্রেস্ট ও নানা উপহার সামগ্রী তুলে দেন কর্মকর্তারা। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদ কমিটির সদস্য ও মুসল্লিরা অংশ নিলে মিলনায়তনটি পরিণত হয় কৃতজ্ঞতা ও আবেগঘন পরিবেশে।
ইমাম মাওলানা মো. আবদুল কাদের দীর্ঘ ৪২ বছর এবং মুয়াজ্জিন মাওলানা আমজাদ হোসেন ৩৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন। বক্তারা জানান, ইমাম আবদুল কাদেরের পুরো কর্মজীবনই ছিল বিনা বেতনে মানবসেবার অনন্য উদাহরণ, যা আজকের সমাজে সত্যিই বিরল। প্রতিদিনের নামাজ পরিচালনা থেকে শুরু করে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা—সব ক্ষেত্রেই তাঁদের ভূমিকা ছিল নিবেদিতপ্রাণ।
আবেগঘন কণ্ঠে ইমাম মাওলানা আবদুল কাদের বলেন, “এই মসজিদে চার দশক দায়িত্ব পালন করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। মুরাদনগরের মানুষের ভালোবাসা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।”
মুয়াজ্জিন মাওলানা আমজাদ হোসেন বলেন, “আজান দেওয়া আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সৌভাগ্য। এখানকার মানুষের সম্মান ও স্নেহ আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুকদার, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম মানিক, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারি পূর্ণ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সানজিদা হায়দার নুপুর এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।
এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান এবং বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মসজিদ কমিটির সদস্য ও মুসল্লিরা বিদায়ী ইমাম–মুয়াজ্জিনের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং আগামীর পথচলার সাফল্য কামনা করেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি