
কুমিল্লা দেবিদ্বারে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে দেশি জাতের চেয়ে বিদেশি জাতের পশু–পাখির স্টল ছিল বেশি। ‘দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি; প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে রেয়াজ উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেনারি হাসপাতাল। সহযোগিতা করে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)।
প্রদর্শনীতে বিদেশি জাতের গরু–ছাগলের মধ্যে ছিল ফ্রিজিয়ান হলেস্টিন, জার্সি, পাঞ্জাবি এবং তোতাপুরি রামছাগল। এছাড়া জার্মান শেফার্ড কুকুর, ফার্সিয়ান বিড়াল, টাইগার ও ব্রয়লার–সোনালী মুরগিসহ বাজিঘর, কুয়েল, লাভবার্ডসহ নানা রকম বিদেশি ও দেশি প্রজাতির পশুপাখি দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। মেলায় ওষুধ, ঘাস ও খামার–সংক্রান্ত যন্ত্রাংশসহ মোট ৩০টি স্টল বসে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. ফয়সল উদ্দিন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুব্রত গোস্বামী এবং উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।
এ ছাড়া হাফেজ রেজাউল করিম, বিপ্লব কুমার ও কামরুল হোসেনসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, খামারি ও কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করাই প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য। পশুপালনে আগ্রহী মানুষ এখানে এসে নানা জাতের পশুপাখি দেখে উদ্বুদ্ধ হন। পশুর যেকোনো সমস্যা নিয়ে দ্রুত সেবা পেতে উপজেলা ভেটেনারি হাসপাতালে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, পশুপালন বেকারত্ব দূরীকরণ, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আমিষের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খামারি, উদ্যোক্তা ও প্রাণিপ্রেমীরা নানা জাতের গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি ও কবুতর নিয়ে প্রদর্শনীতে অংশ নেন। পরে অতিথিরা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন।
দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী দেখতে স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি–পেশার মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :